প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ০৯:১৩ এএম
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১০:১৮ এএম
রাশিয়ার তেল বহনকারী জাহাজ। ছবি; সংগৃহীত
ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্রদের বেঁধে দেওয়া তেলের দাম প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। এ বিষয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলেও সতর্ক করেছে ক্রেমলিন।
আলজারিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ শনিবার (৩ ডিসেম্বর) এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জি৭ এর নির্ধারণ করে তেলের দাম মানবে না রাশিয়া। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর আগে ওই চুক্তি বিশ্লেষণ করা হবে।
শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি৭ ও অস্ট্রেলিয়া সমুদ্র পথে রপ্তানি হওয়া রাশিয়ার তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৬০ ডলার নির্ধারণ করে দেয়। আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হবে বলেও জানায় তারা।
তেল বিক্রি থেকে আসা রাশিয়ার আয় সীমিত করতে তাদের তেলের মূল্যসীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয় পশ্চিমারা। তাদের দাবি, মস্কো এ লাভের টাকা ইউক্রেনের যুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে।
ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন এক বিবৃতিতে জানান, জি৭ ও সব ইইউ সদস্য দেশগুলো এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা রাশিয়ার রাজস্বকে আরও কঠিনভাবে আঘাত করবে। এ সিদ্ধান্ত ইউক্রেনে মস্কোর যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা হ্রাস করে দেবে।
তিনি আরও বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত আমাদের বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে। পুরো বিশ্বে বর্তমানে তেলের উচ্চ মূল্য বহন করা দেশগুলো এতে উপকৃত হবে।’
তবে ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থায় রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ সতর্ক করে বলেন, এ মূল্য নির্ধারণে সমর্থন দেওয়া ইউরোপীয়রা তাদের সিদ্ধান্তের জন্য আপসোস করবে।
উলিয়ানভ এক টুইট বার্তায় বলেন, 'আগামী বছর (২০২৩) শুরু থেকে ইউরোপকে রাশিয়ার তেল ছাড়াই চলতে হবে। মস্কো ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা সেই সব দেশে তেল সরবরাহ করবে না যারা বাজারবিরোধী মূল্য নির্ধারণে সমর্থন করে। সকলে অপেক্ষা করুন, খুব শিগগিরই ইইউ রাশিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে তেল ব্যবহারেরও অভিযোগ আনবে।’
তবে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ ভারত ও চীন মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তেলের এই মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ায় ইইউর বাইরের দেশগুলোতে সমুদ্র পথে রাশিয়া তেল আমদানির সুযোগ পাবে। কিন্তু তাদের নির্ধারিত দামে বা তার কমে ওই তেল কিনতে হবে। না হয় শপিং, ইন্সুরেন্স ও অন্যান্য সংস্থাগুলো ওই তেল পরিবহন করতে পারবে না। কারণ, এই গুরুত্বপূর্ণ শিপিং ও ইন্সুরেন্স সংস্থাগুলো ইইউ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থিত। যে কারণে চুক্তিতে নির্ধারিত দামের চাইতে বেশি মূল্যে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করা রাশিয়ার জন্য কঠিন হয়ে যাবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড় দিয়েও রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবারেই এ তেল বিক্রি হয় প্রতি ব্যারেল ৮৫ দশমিক ৪২ ডলারে।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিও বন্ধ করে দেবে। কমিশন জানিয়েছে, অপরিশোধিত তেলের মতো ঠিক একই পদ্ধতি ব্যবহার করে পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপরও মূল্য নির্ধারণ করে দেবে জি৭।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবারে রাতে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তেলের দাম বেঁধে দেওয়াকে খুব একটা গুরুতর কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ইতোমধ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে বিশ্বের সব দেশের জন্য বিশাল ক্ষতি করেছে। মূল্য নির্ধারণে এ সিদ্ধান্তকে তিনি পশ্চিমাদের দুর্বল অবস্থান হিসেবে বর্ণনা করেন।
কিয়েভ জানায়, তারা দ্রুততম সময়ে শত্রুর অর্থনৈতিক অবস্থা ধ্বংস করে দিতে প্রতি ব্যারেল ৩০ ডলারের কম নির্ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছিল।