ওয়াশিংটনে বিমান দুর্ঘটনা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:৩৭ এএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:৫৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ওয়াশিংটন ডিসির রিগ্যান ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছে মাঝ আকাশে সংঘটিত মারাত্মক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত এক যাত্রীর পরিবার ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর অবহেলার বিরুদ্ধে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মামলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ২৯ জানুয়ারি রিগ্যান ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছে বিমান দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নিহত এক যাত্রীর পরিবার প্রাথমিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে ঘোষণা দেন।
গত মাসে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৫৩২, যেটি কানসাসের উইচিটা থেকে ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। একটি সামরিক প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের সময় আর্মির ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ফলে উভয় বিমানই হিমশীতল পোতোম্যাক নদীতে বিধ্বস্ত হয়।
এ দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত হন। যার মধ্যে বাণিজ্যিক বিমানের সব যাত্রী ও ক্রু এবং সামরিক হেলিকপ্টারের তিনজন কর্মী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। নিহতের মধ্যে একজন ছিলেন কেইসি ক্রাফটন, একজন বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ যার পরিবার মঙ্গলবার প্রাথমিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তার পরিবার শিকাগোভিত্তিক আইন প্রতিষ্ঠান ক্লিফোর্ড ল অফিসকে নিয়োগ করেছে। ফেডারেল কোর্ট ক্লেইমস অ্যাক্টের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে মামলার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৯৫ দাখিল করেছে। সরকারের এখন ছয় মাস সময় রয়েছে এ দাবি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করতে পারবে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক রেকর্ডকৃত বক্তব্যে অ্যাটর্নি বব ক্লিফোর্ড অভিযোগ করেছেন, ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের আশপাশের পরিবেশ তদারকি করা সংস্থাগুলো এবং মার্কিন সেনাবাহিনী সম্ভবত ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’ করেছে।
ক্লিফোর্ড বলেন, এ দুর্ঘটনার বিষয়ে আমরা যা জানি তার ভিত্তিতে সময় ক্ষেপণের কোনো কারণ নেই। প্রকৃতপক্ষে এটি সময়নির্ভর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বিশেষ করে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) পরিবারগুলোর কাছে যে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তার নির্ধারিত সময়সীমার আলোকে এটি জরুরি পদক্ষেপ।
তিনি আরও জানান, আইনপ্রতিষ্ঠানটি আমেরিকান এয়ারলাইনস, আমেরিকান ঈগল, পিএসএ এবং সম্ভাব্যভাবে সিকোরস্কি এয়ারক্রাফটের কাছে প্রমাণ সংরক্ষণসংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে।
এফএএ ‘সম্ভাব্য মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে’ মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। সেনাবাহিনী তৎক্ষণাৎ সংবাদমাধ্যমের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
ক্রাফটন বব জোনস ইউনিভার্সিটিতে বিমান পরিচালনা নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন এবং উইচিটা থেকে ব্যবসায়িক সফর শেষে ফিরছিলেন। তিনি গার্ডিয়ান জেট নামক একটি বিমান পরামর্শদাতা সংস্থায় প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।