প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৬:২৪ পিএম
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২১:৩১ পিএম
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ছবি: এপি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেছেন, ‘কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য বানাতে ট্রাম্পের আগ্রহ ‘মূলত’ কানাডার প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে।’
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে বার্তা সংস্থা এপি শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ট্রুডো বলেছেন, ‘এটা ( যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হওয়া) কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।’
দেশটির সরকারি গণমাধ্যম সিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার কানাডার ব্যবসায়ী ও লেবার নেতাদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক চলাকালে লাউস্পিকার চালু থাকায় ট্রুডোর এই বক্তব্য প্রচার হয়ে যায়।
সিবিসি জানিয়েছে, মাইক্রোফোনটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আগে বৈঠক চলাকালে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিয়ে কথা বলেন ট্রুডো।
এ সময় তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প মনে
করছেন, কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বানানোর সবচেয়ে সহজপন্থা কানাডাকে তাদের দেশের
সঙ্গে একীভূত করা। এটি একটি বাস্তব ঘটনা। এ বিষয়ে তার (ট্রাম্প) সঙ্গে আমার আলাপ চলছে।’
ট্রুডো আরও বলেন, ‘আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের বিষয়ে মার্কিনিরা জানেন। তারা এই সম্পদের সুবিধা ভোগ করতে চাইছে।’
এই বক্তব্যের বিষয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করার
চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
তবে দেশটির আলবার্টা ফেডারেশন অব লেবারের সভাপতি গিল ম্যাকগাউন সামাজিক
মাধ্যম ‘এক্সে’ এক পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর
বক্তব্যের সত্যতা তুলে ধরেছেন।
ট্রাম্প বার বার বলেছেন যে, কানাডা যদি যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য
হতে রাজি হয়, তবে কানাডার জন্য তা আরও ভালো হবে।
শুক্রবার প্রকাশ্য মন্তব্যে ট্রুডো বলেন, ‘কানাডার সকল
আমদানির ওপর শুল্কারোপের হুমকি মোকাবিলার জন্য কানাডাকে ‘কৌশলগতভাবে’ভাবতে হবে।’
টরন্টোতে কানাডা-মার্কিন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক একদিনের শীর্ষ
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ট্রুডো বলেন, ‘শুল্ক এড়াতে
দেশটিকে অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে হবে। কানাডার অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য
বাধা দূর করতে হবে এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে হবে।’
ট্রুডো বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আমাদের
দেশের ইতিহাসে এটি এমন একটি সময়, যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।’
মেক্সিকো এবং কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপের
হুমকির পর গত সোমবার ট্রাম্প ৩০ দিনের জন্য তা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে কানাডার তেল,
প্রাকৃতিক গ্যাস এবং বিদ্যুতের উপর ১০ শতাংশ শুল্কারোপের কথা বলেন।
ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ এবং ফেন্টানাইল চোরাচালান রোধে দেশগুলোর
আরও বেশি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে শুল্কারোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে তিনি দেশীয় উৎপাদন
বৃদ্ধি এবং ফেডারেল সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য শুল্কারোপের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
ট্রুডো বলেন, ‘কানাডা ৩০ দিনের বর্ধিত সময়সীমা ব্যবহার করে মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে সীমান্ত নিরাপত্তায় দেশটির ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরতে পারে। কানাডা ১৩০ কোটি কানাডিয়ান ডলার সীমান্ত সুরক্ষা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ড্রোন, হেলিকপ্টার, আরও সীমান্তরক্ষী এবং একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘উত্তর আমেরিকার ফেন্টানাইল সমস্যার
সামান্য অংশের জন্য কানাডা দায়ী। এটি মোকাবিলায় আমাদের কীভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে, সে সম্পর্কে আমাদের খুব সচেতন হওয়া দরকার। তবে এই
ট্র্যাজেডি আমাদের তীব্রভাবে স্পর্শ করেছে।’
সম্প্রতি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্ত দিয়ে ফেন্টানাইল মাদক পাচার ও অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ ঠেকাতে কানাডার ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ লক্ষ্যে গত শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) কানাডার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে এক নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন ট্রাম্প।
সূত্র: এপি