ট্রাম্পের নতুন নিয়ম
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৯:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কয়েক দিনে আগেও যু্ক্তরাষ্ট্রে বাঙালি–অধ্যুষিত এলাকার সড়ক ও রেস্তোরাঁয় অসংখ্য মানুষের ভিড় দেখা যেত। বাংলাদেশিদের ভিড়ে হোটেল রেস্তোরা গিজগিজ করতো। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সেখানে ভিড় কমতে থাকে। বর্তমানে সেখানে তেমন একটা ভিড় নেই বললেই চলে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে সেখানে যেন মানুষের বড্ড অভাব। সেখানকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর থেকে আতঙ্কে আছেন নথিপত্রহীন অবৈধ অভিবাসীরা। একই অবস্থা নথিপত্রহীন বাংলাদেশিদেরও। নথিপত্রহীন অভিবাসীদের ধারপাকড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে নিউইয়র্কের ব্রুকলিন বরোর ফুলটন এলাকা থেকে চার বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস ইনফোর্সমেন্ট (আইস)।
নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রথম দিনই শতাধিক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে ৪৭টি নতুন, বাকিগুলো জো বাইডেন আমলের ৭৮টি নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছেন।
ফলে ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের শক্ত হাতে দমন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ধরপাকড় শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নানা অঙ্গরাজ্যে। নথিপত্রহীন সন্দেহভাজন অভিবাসীদের ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিউইয়র্কে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা আইন কর্মকর্তা খাদিজা মুনতাহা রুবা বলেন, নিউইয়র্কের ব্রুকলিন বরোর ফুলটন এলাকা থেকে আড্ডা দেওয়া অবস্থায় নথিপত্রহীন চার বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে আইস। তাদের মধ্যে একজনকে অসাদাচরণের জন্য আটক করা হয়। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা এ সময় সাদাপোশাকে ছিলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী এক বাংলাদেশি বলেন, ‘ফুলটন এলাকায় আমরা আড্ডা দিচ্ছিলাম। অতর্কিতে সাদাপোশাকে কয়েকজন কর্মকর্তা এসে আমাদের পরিচয়পত্র দেখাতে বলেন।’
একজন তাদেরকে সহায়তা করতে অস্বীকার করেন। প্রতিবাদী হয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী তিনি তাঁর পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য নন। তিনি এ কথা বলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কিছুটা দূরে একই এলাকায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক অ্যাটর্নি বলেন, ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। যাঁরা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ দক্ষিণ আমেরিকার পথ ধরে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে ঢুকতেন, সেই পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। আগে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। সে হিসাবে অভিবাসীরা বিভিন্ন জায়গায় চাকরির ব্যাপক সুযোগ পেয়েছেন। এখন থেকে মেধার ভিত্তিতে সেসব নিয়োগ নির্ধারিত হবে। ফলে ছাটাই হতে পারেন অসংখ্য বাংলাদেশি।
বাংলাদেশিদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী কোনো সংস্থার সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁদের সহযোগিতা করতে হবে। অন্যের ওয়ার্ক পারমিট দিয়ে কাজ করা বন্ধ করতে হবে। এই কঠিন সময়ে অহেতুক পুলিশি অথবা অন্য কোনো বিবাদ অথবা ঝামেলায় জড়ানো যাবে না।
সংবিধানের তোয়াক্কা না করে নির্বাহী আদেশ জারি করে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের একটি বিধানও বাতিল করেছেন ট্রাম্প। এতে এখন থেকে ৩০ দিন পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানেরা দেশটির নাগরিকত্ব পাবে না। তবে ইতিমধ্যে এই নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে ২৪টি রাজ্য ও শহরে মামলা হয়েছে। যেহেতু এটা মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনের বিরুদ্ধে যায়, সে কারণে হাইকোর্ট এটি বাতিল করে দিতে পারে।