জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:১৮ পিএম
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:৪৬ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার নিয়ে বেশকিছু বিষয়ে নির্বাহী আদেশ দিয়ে এক প্রকার ঝড় তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার শপথ গ্রহণের দিনেই তিনি যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছেন, তার অন্যতম একটি হচ্ছে- জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সুবিধা বাতিল। আর এই ইস্যুতে ক্ষমতা গ্রহণের পরদিনই আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হলো তাকে।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব
বাতিলের ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত
২২টি অঙ্গরাজ্য ও দুটি শহর। পাশাপাশি এই আইনি লড়াইয়ে শরিক হয়েছে বিভিন্ন নাগরিক অধিকার
সংগঠনও।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক
কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
‘জন্মসূত্রে
নাগরিকত্ব’ পাওয়ার অর্থ হচ্ছে, দেশটিতে যে-ই কেউ জন্মাবে,
সে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়ে যাবে।
এই নীতি বদলানোর প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিন
ধরেই দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রচারাভিযানেও বিষয়টি তিনি
গুরুত্বের সঙ্গে ভোটারদের সামনে তুলে ধরেন। আর ক্ষমতায় বসে প্রথম দিনে তিনি সেই পদক্ষেপও
নেন। সই করেন এ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে।
ট্রাম্প দায়িত্ব নিয়েই ফেডারেল সরকারের
সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো অবৈধ অভিবাসী অথবা সাময়িক ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে
আছেন, এমন কেউ সন্তান জন্ম দিলে সেই শিশুকে যেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বসংক্রান্ত
নথি দেওয়া না হয়।
ট্রাম্প এ সংক্রান্ত
নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার পরপরই আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন সোমবার এক বিবৃতিতে
বলে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুকে নাগরিকত্ব না দেওয়ার আদেশ শুধু অসাংবিধানিক নয়,
একইসঙ্গে তা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের বেপরোয়া ও নির্মম প্রত্যাখ্যান।
অনলাইন দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে
বলা হয়, মঙ্গলবার বোস্টনের একটি প্রাদেশিক আদালতে ওই মামলা দায়ের করেছে ডিস্ট্রিক্ট
অব কলম্বিয়া এবং সান ফ্রান্সিসকো শহরসহ মোট ২২টি অঙ্গরাজ্যের একটি জোট। এর নেতৃত্বে
রয়েছেন ডেমোক্রেট দলের নেতারা।
মামলাকারীরা বলছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব
পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণীত অধিকার। এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অর্থ হচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
ঠিক তা-ই করেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার শপথ গ্রহণের পরপরই
দেড় শতাধিক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। তার মধ্যে একটি ছিল জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের
নাগরিকত্ব আইন বাতিল সম্পর্কিত। মূলত তার এই আদেশ সংবিধান পরিপন্থী বলেই উল্লেখ করেছে
ডেমোক্রেটসহ অন্য অনেক সংস্থা।
নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পরপরই আমেরিকান
সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন, বিভিন্ন অভিবাসী সংগঠন এবং গর্ভবতী নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে
একই ধরনের মামলা করেছে। আর এটা ট্রাম্পকে ক্ষমতা গ্রহণের পরের দিনই আইনি চ্যালেঞ্জের
মুখোমুখি করেছে।
নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল ম্যাথিউ প্লাটকিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরাও ট্রাম্পের এই অবৈধ পদেক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে বিষয়টির বিরোধিতা করে ইতিমধ্যে বেশকিছু মামলা হয়েছে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে- আমরা মামলাকারীদের পক্ষে সর্বোপরি সাংবিধানিক অধিকারের পক্ষে দাঁড়াব।’