প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ০০:৪৫ এএম
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ১১:১৬ এএম
ছবি : রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি বন্ধ ঘোষণা করেছেন সদ্য শপথ নেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৯০ দিনের জন্য এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
সোমবার
(২০ জানুয়ারি) শপথ নেওয়ার পর
নির্বাহী আদেশ জারির
মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেন
তিনি।
তবে
বৈদেশিক সহায়তা বন্ধের আদেশ মার্কিন তহবিলের
ওপর কী ধরনের প্রভাব
ফেলবে তা পরিষ্কার নয়।
কারণ দেশটির অনেক কর্মসূচি এরই
মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসে তহবিল বরাদ্দ পেয়েছে। আর এসব অর্থ
এরই মধ্যে বিতরণ অথবা ব্যয় করা
হয়েছে।
সোমবার
মার্কিন ক্যাপিটল ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম
প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ট্রাম্প।
শপথ নেওয়ার পর নির্বাহী আদেশে
সই করার ঝড় বইয়ে
দেন তিনি। মেক্সিকো সীমান্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণা, পুনরায় পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ, বিদেশি পণ্যের আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধিসহ কয়েক ডজন নির্বাহী
আদেশে সই করেছেন ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্টের
পররাষ্ট্রনীতির উদ্দেশ্যগুলোর সঙ্গে একেবারে মিল না থাকলে
যুক্তরাষ্ট্র কোনো বৈদেশিক সহায়তা
দেবে না বলেও ঘোষণা
দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে গত সপ্তাহে
সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটিতে শুনানির সময় দেশটির নতুন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তিনটি মূল প্রশ্ন সামনে
রেখে কর্মসূচির ন্যায্যতা দেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছিলেন।
মার্কো
রুবিওর তিনটি প্রশ্ন ছিলÑ এ সহায়তা
কর্মসূচি কি যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ
করে তোলে? এটি কি যুক্তরাষ্ট্রকে
আরও শক্তিশালী করে তোলে? এটি
কি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি সমৃদ্ধ
করে তোলে?
যুক্তরাষ্ট্রের
ফেডারেল (কেন্দ্রীয়) বাজেটের প্রায় ১ শতাংশই যায়
বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি তহবিলে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে এ বিদেশি সহায়তার
সমালোচনা করছেন। যদিও রাশিয়ার সঙ্গে
ইউক্রেনের যুদ্ধে কিয়েভে বিশাল পরিমাণের সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে ইউক্রেনকে রক্ষায়
যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো সহায়তার পরিমাণ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বাইডেন
প্রশাসনের সাম্প্রতিক বৈদেশিক সহায়তাবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা
হয়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের
মাঝামাঝি থেকে ২০৪টি
দেশ ও অঞ্চলে দুর্যোগত্রাণ, স্বাস্থ্য, গণতন্ত্রপন্থি উদ্যোগসহ
বিভিন্ন খাতে মার্কিন বৈদেশিক
সহায়তা কর্মসূচির জন্য ৬ হাজার
৮০০ কোটি ডলার বরাদ্দ
দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন
এ সহায়তার প্রধান প্রাপক ইসরায়েল বার্ষিক ৩৩০ কোটি ডলার,
মিসর বার্ষিক দেড় ১৫০ কোটি
ডলার ও জর্ডান বার্ষিক
১৭০ কোটি ডলার পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এসব দেশের দীর্ঘস্থায়ী
চুক্তির কারণে এ সহায়তায় উল্লেখযোগ্য
কোনো কাটছাঁট ট্রাম্প করবেন না বলেই মনে
করছেন অনেকে।
সূত্র : রয়টার্স