প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৫ ১৬:১৬ পিএম
আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৫ ১৬:৩০ পিএম
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রথম দফায় তিন ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে ৯০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তিকে দিয়েছে ইসরায়েল। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ফিলিস্তিনের সুপরিচিত রাজনৈতিক নেতা খালিদা জাররারও রয়েছে।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দিবাগত রাত ১টার দিকে রেডক্রসের বাস তাদেরকে পশ্চিম তীরের রামাল্লায় নিয়ে আসে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা।
যুদ্ধবিরতি শুরুর পর হামাস তিন জিম্মিকে গাজায় রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তরের পর তাদের ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তারা হলেন- ৩১ বছর বয়সি ডরন স্টেইনব্রেচার, ২৮ বছর বয়সি ব্রিটিশ ইসরায়েলি দ্বৈত নাগরিক এমিলি ডামারি এবং ২৪ বছর বয়সি রমি গোনেন।

ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে যে ৯০ জন ফিলিস্তিনি ফিরে এসেছে তাদের মধ্যে ৬৯ জন নারী ও ২১ জন টিনএজ বয়সি ছেলে। কিশোরদের কারও কারও বয়স মাত্র ১২। যারা মুক্তি পেয়েছে তাদের সম্প্রতি আটক করা হয়েছিল এবং তাদের বিচার বা শাস্তি দেওয়া হয়নি।
হামাস জানিয়েছে, তারা পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমের। তাদের পশ্চিম তীরে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রিজন সার্ভিস।
কোনো ধরনের উদযাপন থাকবে না ইসরায়েলি বাহিনীর এমন সতর্কতা সত্ত্বেও আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব আর সমর্থকসহ হাজারো উচ্ছ্বসিত মানুষের বিশাল এক ভিড় বাড়ি ফিরে আসা এ ফিলিস্তিনিদের বরণ করে নেয়।
এদিন দখলকৃত পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমের ৬৯ নারী ও ২১ কিশোর বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। মুক্তি পাওয়া নারীদের মধ্যে আছেন ৬২ বছর বয়সী খালিদা জারারও। বামপন্থি পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টানের শীর্ষস্থানীয় এ সদস্যকে ‘প্রশাসনিক আটকাদেশ’ এর আওতায় ছয় মাস নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছিল।
‘প্রশাসনিক আটকাদেশ’ এর আওতায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ বা আদালতের রায় ছাড়াই সন্দেহভাজন যে কাউকে জেলে আটকে রাখতে পারে।
আছেন সাংবাদিক বুশরা আল-তাউইলও, ইসরায়েল যাকে ২০২৪ সালের মার্চে জেলে পাঠিয়েছিল।
এ নারী জানান, তার যাত্রা শুরু হয় রবিবার স্থানীয় সময় ভোররাত ৩টার দিকে। এ সময় তাকে এক কারাগার থেকে অন্য এক কারাগারে এনে মুক্তি পেতে যাওয়া বন্দিদের সাথে রাখা হয়
তিনি জানান, অপেক্ষা করতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। যদিও যে কোনা মুহূর্তে যে আমাদের মুক্তি দেওয়া হবে সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত ছিলাম।
তাউইলের বাবাও এখন ইসরায়েলের কারাগারে। শিগগিরই তাকেও ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান এ সাংবাদিক।
সাংবাদিক তাউইল জানান, আমি তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তিনি এখনও বন্দি, চুক্তির অংশ হিসেবে তিনিও মুক্তি পাবেন মাত্রই এই সুসংবাদ পেয়েছি।
খালিদা, বুশরাসহ গভীর রাতে ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত ৯০ নারী-শিশু দখলকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় এসে পৌঁছালে আবেগাপ্লুত আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধবরা মুক্ত ফিলিস্তিনিদের কাউকে কাউকে কাঁধেও তুলে নেন; কারো চোখে পানি, উল্লাসে কেউ বাজাচ্ছেন শিস।
উপস্থিত অনেকের হাতে এসময় ফাতাহ, হামাস, প্যালেস্টিনিয়ান ইসলামিক জিহাদসহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া গোষ্ঠীগুলোর পতাকাও ছিল।

বন্দি অনেককে ছেড়ে দেওয়া হবে শুনে বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছুটে এসে এসেছেন রামাল্লার ২০ বছর বয়সি তরুণ মুহাম্মদ।
কিছুদিন আগে তিনি নিজেই ইসরায়েলের ওফার কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন। বন্দিরা তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একত্রিত হতে পারবে, এটা ভেবেই আনন্দিত তিনি।
‘কারাগারে থাকা অনেক লোককে জানতাম আমি। তাদের মধ্যে অনেক নিষ্পাপ মানুষ এবং নারী ও শিশু আছে’ বলেছেন তিনি।
আল জাজিরা জানায়, ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে এবারই প্রথম বন্দি বিনিময় হলো।
এবার যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ঠিক কত ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হবে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও সংখ্যাটা এক হাজার থেকে দুই হাজারের কাছাকাছি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
চুক্তির প্রথম ধাপে ছয় সপ্তাহে হামাস মোট ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শনিবার জিম্মি মুক্তির পরবর্তী দিন। দুই সপ্তাহের মধ্যে চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা।
সূত্র: আল জাজিরা