প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২২ ১৪:২৫ পিএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২২ ১৫:১৬ পিএম
ফিনল্যান্ডের সানা মারিন এবং নিউজিল্যান্ডের জেসিন্ডা আরডার্ন।
প্রথম কোনো ফিনিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিউজিল্যান্ড সফরে করছেন সানা মারিন। তাকে স্বাগত জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। তাদের এ সফর নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টাকে সফলভাবে মোকাবিলা করেছেন সময়ের আলোচিত দুই নারী সরকারপ্রধান। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার পায়তারায় রীতিমতো পানি ঢেলেছেন তারা।
নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘অনেক লোক ভাববে, আপনারা দুজন দেখাসাক্ষাৎ করছেন শুধু এই কারণে যে, আপনারা সমবয়সী এবং আপনাদের আলোচনায় খুব সাধারণ বিষয়ে কথা হবে।’
আরডার্ন তখন ওই সাংবাদিককে উল্টো প্রশ্ন করেন, পুরুষ নেতারা সাক্ষাৎ করলে একই প্রশ্নের মুখোমুখি হতেন কিনা। তিনি আরও বলেন, দুজন নারীর সাক্ষাৎকে এভাবে দেখার কিছু নেই।
এরপর সানা মারিন ও আরডার্ন একসঙ্গে বলেন, ‘আমরা যে যার দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেই দেখা করেছি, উভয়ই সমবয়সী বলে নয়।’
বিবিসি জানিয়েছে, আরডার্ন ওই সাংবাদিকের প্রশ্নের বিপরীতে বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের রাজনীতিতে পুরুষদের অনুপাত বেশি, এটি বাস্তবতা। কিন্তু, এর মানে এই নয় যে, দুজন নারী সাক্ষাৎ করেন কেবল গল্পগুজব করার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড ও ফিনল্যান্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে আজকে আমাদের বৈঠকটি সত্যিই একটি সুযোগ।’
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক প্রসঙ্গে তারা বলেন, তারা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আরডার্ন জানান, তারা রাশিয়ার আক্রমণের পরে ইউক্রেনকে সমর্থন করার জন্য একটি দৃঢ় যৌথ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ নিয়েও আলোচনা হয়েছে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে।
সানা মারিন বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সাহসী নারীরা যারা ইরানে আইন এবং নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে, আমাদের এই ধরনের সমস্যাগুলোকে একসঙ্গে সমাধান করতে হবে।’
সাংবাদিকের ওইসব প্রশ্নে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
সানা মারিনের পার্টিতে যোগ দেওয়ার ছবি অনলাইনে আসায় বিশ্বজুড়ে হৈ চৈ শুরু হওয়ার হয়েছিল। তখন বিরোধীরা তাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিযুক্ত করে।