প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২২ ২১:২৩ পিএম
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২২ ২১:৩০ পিএম
অগ্নুৎপাত শুরু করেছে বিশ্বের বৃহত্তম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাওনা লোয়া। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই রাজ্যের ওয়াইকোলো গ্রাম থেকে ২৮ নভেম্বর তোলা। ছবি: সংগৃহীত
মাওনা লোয়া যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের অনেকগুলো সক্রিয় আগ্নেয়গিরি একটি। এটি বিশ্বের বৃহত্তম সক্রিয় আগ্নেগিরি। প্রায় ৪০ বছর পর রবিবার আগ্নেয়গিরিটা অগ্নুৎপাত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে জ্বালামুখের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েই গেছে। এ জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।
বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক পরিষেবা বিভাগ (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, রবিবার (২৭ নভেম্বর) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাওনা লোয়া আগ্নেয়গিরি অগ্নুৎপাত করতে শুরু করে। এর লাভা ও শিখা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩ হাজার ৬৭৯ উচ্চতায় পৌঁছেছে। আগ্নেয়গিরিটার ব্যস প্রায় ৫ হাজার ১৭৯ বর্গ কিলোমিটার।
সর্বোচ্চ সতর্ক সংকেত জারি করা হলেও সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী শহরের মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়নি। তবে প্রয়োজনে সরিয়ে নেওয়ার জন্য দুটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।
মাওনা লোয়া আগ্নেয়গিরি হাওয়াই আগ্নেয়গিরি জাতীয় উদ্যানের মাঝখানে অবস্থিত। এ আগ্নেয়গিরিটি ১৮৮৩ সালের পর থেকে ৩৩বার অগ্নুৎপাত করেছে। ১৯৮৪ সালের মার্চ ও এপ্রিলে এটি শেষবারের মতো অগ্নুৎপাত করে। তখন লাভা পাঁচ মাইল দূরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম দ্বীপ হিলোতে গিয়ে পড়ে। হিলো হাওয়াই দ্বীপের বৃহত্তম জনসংখ্যার শহর। ১৯৮০ সালের চেয়ে শহরটির বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে দুই লাখে পৌঁছেছে।
ইউএসজিএসের বিবৃতিতে বলা হয়, মাওনা লোয়া অতীতের অগ্নুৎপাত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটা যেকোনো সময় ভয়ংকর ওঠতে পারে। কারণ এটা নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম মেনে চলে না। এর বিস্তার হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তাই সবকিছু সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
হাইওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য হলেও তা আমেরিকা মহাদেশের বাইরে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখন্ড থেকে দ্বীপপুঞ্জটির দূরত্ব প্রায় দুই হাজার মাইল। প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত রাজ্যটির জনসংখ্যা ১৯৮০ এর দশকে ছিল সাত লাখের মতো। বর্তমানে তা দ্বিগুণ হয়ে ১৪ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।