প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:৫০ এএম
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮:২৮ পিএম
সালমান রুশদি। ছবি : সংগৃহীত
সালমান রুশদির ১৯৮৮ সালের উপন্যাস ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ অবশেষে তার জন্মভূমি ভারতের বইয়ের দোকানে ফিরে এসেছে। প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে বইটি গত ৩৬ বছর ভারতে নিষিদ্ধ ছিল।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন থেকে অনুপ্রাণিত এ উপন্যাসটি প্রকাশিত হওয়ার পরই বাক্স্বাধীনতা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে উপন্যাসটির বিষয়বস্তু নিয়ে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজীব গান্ধীর সরকার ভারতে বইটি নিষিদ্ধ করে।
ভারতে উপন্যাসটির আমদানি নিষিদ্ধ করে জারি করা ঘোষণার মূল সরকারি আদেশের নথিটি বর্তমানে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভারতের বিশাল আমলাতন্ত্রের কোনো মহাফেজখানায়ও নথিটি নেই; যা বিষয়টিকে উল্টো দিকে পরিচালিত করেছে।
গত মাসে দিল্লি হাইকোর্ট ভারতে উপন্যাসটির আমদানি নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে রায় দিয়েছেন। রায়ে বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের কোনো আদেশের অস্তিত্ব নেই বলে ধরে নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’ ফলে উপন্যাসটি এখন ভারতে আমদানি করা বৈধ। ভারতের বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির খান মার্কেটে বাহরিসনস বুকসেলার্স সামাজিক মাধ্যম এক্সের একটি পোস্টে বইটির প্রাপ্যতার কথা জানিয়ে দোকানটির ম্যানেজার জানিয়েছেন, স্যাটানিক ভার্সেস এখন তাদের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। বইটির মূল্য ১ হাজার ৯৯৯ রুপি ধরা সত্ত্বেও বইটির বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে।
বইটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকার কারণে কিছু পাঠক এ উপন্যাস সম্পর্কে কৌতূহল প্রকাশ করেছেন। ২২ বছর বয়সী দিলীপ শর্মা বলেছেন, ‘সারা জীবন আমি দ্য স্যাটানিক ভার্সেস নিয়ে অনেক কিছু শুনেছি। কৌতূহলের জায়গা থেকেই আমি উপন্যাসটি পড়তে চাই।’
ভারত রুশদির উপন্যাসটি থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও আবারও দেশটিতে এই উপন্যাস নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। মুসলমানদের কয়েকটি সংগঠন পুনরায় উপন্যাসটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, উপন্যাসটিতে ইসলামি বিশ্বাসে ‘আঘাত’ দেওয়া হয়েছে।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মাওলানা মুফতি শাহাবুদ্দিন রাজভি বেরলভি বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান কোনো বইয়ের দোকানের শেলফে এই ঘৃণ্য বই দেখে সহ্য করতে পারে না।’