প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:৩১ পিএম
আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৪:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী দিল্লির স্কুলগুলোকে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে স্কুলে ভর্তির সময় যথাযথভাবে সব শিক্ষার্থীদের পরিচয় শনাক্ত ও যাচাই করার এবং এ ধরনের অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের যাতে জন্ম নিবন্ধনপত্র দেওয়া না হয় তা বাধ্যতামূলকভাবে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।
গত বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এমসিডি) এ নির্দেশ দিয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর দিল্লি সরকারের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির (স্বরাষ্ট্র) সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে অতিরিক্ত কমিশনার ও জেলা প্রশাসক এমসিডি কমিশনারের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন ।
দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এমসিডি) এ নির্দেশ দিয়েছে। নাগরিক সংস্থা সমস্ত এমসিডি অঞ্চলকে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের দখলদারিত্ব অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এমসিডির ডেপুটি কমিশনার ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তার একটি রিপোর্ট চেয়েছেন।
জেলা প্রশাসকের দেওয়া সে আদেশে বলা হয়েছে,‘পৌরসভার স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের শনাক্ত করতে শিক্ষা অধিদপ্তর যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া স্কুলগুলোতে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী শিশুদের শনাক্ত করতে যথাযথ শনাক্তকরণ ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চালানোর অনুরোধও জানানো হয়েছে।’
এই নির্দেশের প্রতিক্রিয়ায় আম আদমি পার্টির (আপ) সাংসদ সঞ্জয় সিং বলেছেন, এমসিডির এই নির্দেশ অবৈধ অভিবাসীদের নামে পূর্বাঞ্চলীয় সম্প্রদায়কে অপমান ও অসম্মান করার একটি প্রচেষ্টা। একইসঙ্গে বিজেপির জাতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা পূর্বাঞ্চলিদের ‘রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী’ ও ‘বাংলাদেশিদের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন বলে অভিযোগও করেছেন তিনি।
রাজ্যসভার এই সাংসদ বলেছেন,‘তারা উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের গরিবদের অপমান করতে চায়। এই নির্দেশের মাধ্যমে তারা পূর্বাঞ্চলি, তাদের সন্তানদের হুমকি দিতে চায়। তাদের দোকান ও বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে চায়।’
দিল্লির মোট ভোটারের প্রায় ৪২ শতাংশ ভোটার হচ্ছেন পূর্বাঞ্চলীয় উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে আসা অভিবাসীরা। বুরারি, লক্ষ্মী নগর ও দ্বারকার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলসহ দিল্লির ৭০টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় অর্ধেক আসনে তাদের প্রভাব রয়েছে।