প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫:৪৬ পিএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে প্রবেশ ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি চার পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দেশটির পুলিশ এ বিষয়ে জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৩২ (হামলা), ১৮৯ (২) (বেআইনি জমায়েত), ১৯১ (দাঙ্গার দোষী), ৩২৯ (৩) (অপরাধমূলক অনুপ্রবেশের জন্য দোষী) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- গোলচক্কর বর্ডারের বাসিন্দা ঝুটান দাস, দশমীঘাটের বাসিন্দা উজ্জ্বল দাস, অভয়নগরের বাসিন্দা দীপ্তনীল ভৌমিক, আমতলীর সূর্য দাস, এসডিও চৌমুহানির বাসিন্দা আলাক মজুমদার, প্রদীপ সাহা ও বেলোনিয়ার বাসিন্দা ঝুলন মালাকার।
দেশটির পুলিশ অন্য সন্দেহভাজনদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
পশ্চিম ত্রিপুরার এসপি কিরণ কুমার কে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তিনজন উপ-পরিদর্শককে (এসআই) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর পুলিশের একজন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্টকে কাজ থেকে বিরত করা হয়েছে ও পুলিশ সদর দপ্তরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
কুমার বলেছেন,‘২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ হাইকমিশনে দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য উপ-পরিদর্শক (ইউবি) দিলু জমতিয়া ও জয়নাল হোসেন এবং সার্জেন্ট দেবব্রত সিনহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম চলছে।’
কুমার আরও জানিয়েছেন, সোমবারের ঘটনায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে। বাংলাদেশ উপদূতাবাস চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ত্রিপুরা পুলিশের কর্মী ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ ও সাত জনকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতন ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সোমবার (২ ডিসেম্বর) বিক্ষোভ সমাবেশ ডাকে হিন্দুত্ববাদী একটি সমিতি। আগরতলার সার্কিট হাউসে অবস্থিত গান্ধী মূর্তির সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। পরে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ছয়জনের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে গিয়ে স্মারকলিপি দেয়।
এক পর্যায়ে সমিতির বিক্ষুব্ধ সদস্যরা সহকারী হাইকমিশনের ভেতরে প্রবেশ করে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলেন এবং সেই পতাকা ছিঁড়ে ফেলেন। পরে তারা ভবনের সামনে থাকা সাইনবোর্ড ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেন।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, আনন্দবাজার পত্রিকা