প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:১১ এএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:১৬ এএম
সিরিয়ার আলেপ্পো শহর এখন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। সরকারবিরোধী যোদ্ধারা শহরের রাস্তায় অস্ত্র হাতে পাহারা দিচ্ছে। শনিবার (৩০ নভেম্বর) সিরিয়া থেকে তোলা।ছবি : সংগৃহীত
সিরিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকা সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে গত রবিবার (১ ডিসেম্বর) ফোনালাপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। একই দিন একটি যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে সিরিয়ায় যুদ্ধ উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্লিঙ্কেনের ফোনালাপের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার এক বিবৃতিতে বলেন, আলেপ্পো ও অন্যত্র বেসামরিক মানুষের জীবন ও অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ব্লিঙ্কেন টেলিফোনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
সিরিয়ার বিদ্রোহী ও তুরস্ক-সমর্থিত তাদের মিত্ররা সম্প্রতি দেশটির সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। তারা প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনীর কাছ থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ নগর আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়েছে।
সিরিয়া অঞ্চল আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারেÑ এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরির বিরুদ্ধে আঙ্কারা অবস্থান নেবে বলে ফিদান ব্লিঙ্কেনকে জানিয়েছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সিরিয়ায় শান্তি নিশ্চিত করতে দেশটির সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়া উচিত বলেও জানিয়েছেন ফিদান।
ফিদান জোর দিয়ে বলেন, আঙ্কারা কখনই তুরস্ক কিংবা সিরিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম হতে দেবে না।
সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিমান হামলা
সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের হামলার পর আসাদ সরকারের পক্ষে সেখানে বিমান হামলা চালাচ্ছে তার মিত্র রাশিয়া। গত রবিবার দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হেলমেট। গতকাল সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে সংস্থাটি এ তথ্য জানায়। সিরিয়ার বিরোধী দল পরিচালিত হোয়াইট হেলমেট সেখানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
সিরিয়ায় কোন অংশের নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে
আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত হামলা চালানোর মাত্র তিন দিনের মধ্যে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমের আলেপ্পো দখল করে নিয়েছেন হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী যোদ্ধারা। তারা এখন দক্ষিণে হামা শহরের দিকে এগোচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনীর বিরুদ্ধে এ আক্রমণ দেশটিতে ১৩ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সম্ভবত একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী গত শনিবার দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো থেকে ‘অস্থায়ীভাবে সৈন্য প্রত্যাহারের’ ঘোষণা দিয়েছে। সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা পাল্টাআক্রমণের প্রস্তুতি নিতে পুনরায় সংগঠিত হবে।
সিরিয়ায় ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর ২০১৬ সালে রুশ বিমান বাহিনীর সহায়তায় আলেপ্পোয় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়ে শহরটি পুনরুদ্ধার করেছিল প্রেসিডেন্ট আসাদের বাহিনী। এর পর থেকে গত নভেম্বর পর্যন্ত ইরান, রাশিয়া ও লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সমর্থন নিয়ে আলেপ্পো নিয়ন্ত্রণ করেছে তারা। এ শহরের জনসংখ্যা প্রায় ২০ লাখ।
এইচটিএস বলেছে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা সাম্প্রতিক আক্রমণ শুরু করেছে। সম্প্রতি ইদলিবের আরিহা, সারমাদাসহ বিভিন্ন শহরে আসাদ অনুগত সরকারি বাহিনীর হামলায় শিশুসহ বেসামরিক অনেক মানুষ নিহত হয়েছে।
সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থানীয় চারটি প্রধান দল বা পক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এগুলো হলোÑ আসাদের অনুগত সরকারি বাহিনী, সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস, এইচটিএস ও অন্যান্য সহযোগী বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং তুর্কি ও তুরস্ক-সমর্থিত সিরিয়ার বিদ্রোহী বাহিনী।
সূত্র : আলজাজিরা