প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৪ ১১:৪৯ এএম
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৪ ১২:৩২ পিএম
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআই কর্মীরা ইসলামাবাদের ডি-চকে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান করেন। ছবি : সংগৃহীত
নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের মুখে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদের বিক্ষোভ প্রত্যাহার করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। গত বৃহস্পতিবার ভোরে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুর ও ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবিসহ দলের নেতারা বিক্ষোভস্থল ত্যাগ করেন। অথচ বৃহস্পতিবারই তিনি বলেছিলেন, ইমরান খানকে মুক্ত না করে বাড়ি ফিরবেন না। জিও নিউজ জানিয়েছে, এবারের আন্দোলনে ইমরান খানের স্ত্রী বুশরার নেতৃত্ব নিয়ে পিটিআইয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দলে তার একক সিদ্ধান্তে অনেকে হতাশাও প্রকাশ করেছেন।
দ্য নিউজ এডিটর ইনভেস্টিগেশন আনসার আব্বাসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিটিআই নেতা ব্যারিস্টার গহর ও ব্যারিস্টার সাইফকে হাসান আবদালে গিয়ে ডি-চকের দিকে মিছিল না করতে রাজি করানোর জন্য একটি হেলিকপ্টারও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা যখন হাসান আবদালে পৌঁছান, ততক্ষণে মিছিলটি ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হয়ে গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি পিটিআই নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। মহসিন নাকভি আলি আমিন গান্দাপুর এবং ওমর আইয়ুবের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তবে তাদেরও অসহায় বলে মনে হয়েছিল।
সূত্রের খবর, আন্দোলনে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল বুশরা বিবির। মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুর বুশরা বিবির পেশোয়ার থেকে পদযাত্রায় যোগ দেওয়ার পক্ষে ছিলেন না।
ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ডি-চকে যাওয়া নিয়ে বুশরা বিবি ও আলি আমিন গান্দাপুরের মধ্যে বচসাও হয়েছিল। গত বুধবার রাতে ইসলামাবাদ পুলিশ পিটিআই কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযানের ঘোষণা দেয়। খাইবার পাখতুনখোয়া বিধানসভার স্পিকার বাবর সালিমের ভাই তৈমুর সালিম জিও নিউজকে জানিয়েছেন, আলি আমিন গান্দাপুর, বুশরা বিবি এবং ওমর আইয়ুব খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ বিধানসভার স্পিকার বাবর সালিমের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খানের মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ এবং সংবিধানের ২৬তম সংশোধনী বাতিলের দাবিতে গত ২৪ নভেম্বর ইসলাসাবাদ অভিমুখে রওনা দেন পিটিআইয়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদের ডি-চকে পুলিশ ও পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী রেঞ্জার্সের সঙ্গে সংঘাত শুরু হয় তাদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবশ্য আগে থেকেই রাজধানীতে সেনা মোতায়েন করেছিল সরকার। ইসলামাবাদের রেড জোন ও ডি-চকে পৌঁছানোর পর পুলিশ, রেঞ্জার্স এবং সেনা সদস্যদের হাতে ব্যাপক ধরপাকড়ের শিকার হন পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা। ধরপাকড়ের একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এই আন্দোলন কর্মসূচির শীর্ষ দুই নেতা খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপোর এবং ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবি।
জিও টিভিকে শওকত ইউসুফজাই বলেন, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আলি আমিন গান্দাপোর ব্যতীত সেভাবে আর কোনো জ্যেষ্ঠ নেতার উপস্থিতি দেখা যায়নি। এ ছাড়া দলের মূল নেতা যারা, অর্থাৎ গওহর আলি খান, সালমান আকরাম রাজা, শের আফজাল মারওয়াতÑ কাউকে এ কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। সরকার পিটিআইকে আলোচনার জন্য ডেকেছিল; কিন্তু কী কারণে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো, তা আমি এখনও জানি না।
সূত্র : দ্য ডন