প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:২০ এএম
প্রবা গ্রাফিক্স
ট্রাম্পের কেবিনেটের সদস্য নির্বাচন নিয়ে রিপাবলিকান রাজনীতিকরাও নানা সমালোচনা করেন। বিশেষত, ট্রাম্পের অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের সিদ্ধান্তটি প্রথম থেকেই বিতর্কিত। অবশ্য শেষ পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান পাম বন্ডি। ট্রাম্পের কেবিনেট নিয়ে শত অভিযোগ রাজনীতিকদের থাকলেও রিপাবলিকান ভোটাররা বেশ খুশি।
গত শনিবার (২৩ নভেম্বর) নিউইয়র্কে রিপাবলিকান ভোটাররা যেন আবার উদযাপনে রাঙালেন। ট্রাম্পের প্রশংসা করে ব্যানার, ফেস্টুন ও লাল টিশার্ট পরে অনেকে তাদের সমর্থন জানান। তবে ট্রাম্পের কেবিনেট নির্বাচনে সবচেয়ে কোণঠাসা অবস্থায় ডেমোক্র্যাটরা।
ডেমোক্র্যাটদের মতে, ট্রাম্প এমন লোকদেরই কেবিনেটে স্থান দিয়েছেন, যারা হিংসা, বিদ্বেষ এবং প্রতিশোধের এজেন্ট। কিন্তু রিপাবলিকান ভোটাররা খুশি। অবশেষে ওয়াশিংটনের একচ্ছত্র আধিপত্য ধ্বংস হতে চলেছে। ডেমোক্র্যাটদের জন্য এমনটি নিশ্চয়ই বড় বিপর্যয়ের সংবাদ।
ডেমোক্র্যাটরা ইতোমধ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভ্যাক্সিন দেওয়া বাতিল করার সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে। এমনকি ফেডারেল আমলাকাঠামোয় ইলন মাস্কের অবারিত আসা-যাওয়াও তাদের জন্য শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইওয়া অঙ্গরাজ্যের হাওয়ার্ড কাউন্টির রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান নেইল সাফার জানান, ‘ট্রাম্প এবার এমন মানুষদের নিজের পাশে দাঁড় করিয়েছেন, যাদের দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। তুলসি গ্যাবার্ড, ববি গ্যাবার্ড এবং ইলন মাস্কের মতো মানুষদের রাখায় যুক্তরাষ্ট্রে সংস্কার অনেক সহজ হয়ে উঠবে। আমরা প্রত্যাশা রাখছি, এবার আমাদের সংকট দূর হবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ট্রাম্প তার কেবিনেট এমনভাবে সাজিয়েছেন, যা বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই করতে হবে। এতদিন ওয়াশিংটন যেভাবে নিয়োগ দিত তার আঙ্গিকে দেখলে হবে না। ওয়াশিংটন ডিসিই যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র অংশ না। আমাদের সামরিক বাহিনী, ওষুধ শিল্প এবং বৃহৎ কৃষি খাতের দিকে তাকাতে হবে। সবাই এখন তারল্য প্রত্যাশা করে। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সুপরিকল্পনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।’
তারপরও ট্রাম্পের সমালোচনা রয়ে গেছে। রবার্ট এফ কেনেডি সব সময় ভ্যাক্সিনের বিরুদ্ধে। তা ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি ব্যবস্থাপনার বিষয়েও কিছু অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বড় অভিযোগ ট্রাম্পের প্রেসক্রিপশন ড্রাগ নিয়ে নীতিমালা। কারণ যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রতি বছর ভুট্টা উৎপাদনে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে। এই ভুট্টা হাই ফ্রুক্টোজ সিরাপে পরিণত করা হয়, যা সালাদ থেকে শুরু করে নাস্তার সিরিয়ালেও চলে আসে। এসব ডায়াবেটিস ও স্থূলকায় হওয়ার মতো স্বাস্থ্যসংকট বাড়ায়। ট্রাম্পের খাদ্য নিরাপত্তা নীতি নিয়ে এখনও কোনো বার্তা আসেনি বলে কোণঠাসা ডেমোক্র্যাটরা কিছুটা সক্রিয় হতে পারছে। তবে ভোটাররা খুশি যে এবার মূল্যস্ফীতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে। ইলন মাস্কের সহায়তায় অনেকটা সরকারি খরচ কমানো গেলে আখেরে লাভ হবে যুক্তরাষ্ট্রেরই। বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দরিদ্র অঙ্গরাজ্য ভার্জিনিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক পরিষেবা, কর হ্রাসসহ নানা বিষয়ে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতিও ইতোমধ্যে এই কেবিনেটকে জনসমক্ষে ইতিবাচক হিসেবে দেখাচ্ছে। ফলে ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে।
অভিবাসীদের বিতারণের সিদ্ধান্তও ইতিবাচক বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। কারণ সীমান্তে ফেন্টানিলের মতো মাদকের পাচার অনেক বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনেক রিপাবলিকান ভোটার জানিয়েছে, দেয়াল তোলা হলে সীমান্ত সুরক্ষিত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের মাত্রা কমবে। মাদক পাচারও অনেকাংশে ব্যাহত হবে।
সূত্র : রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান