প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২২ ১৭:৫৪ পিএম
আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২২ ২০:৩৮ পিএম
পুলিশের হাতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখনও চলছে। ছবি : সংগৃহীত
ইরান সরকার হিজাব ইস্যুকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে নিয়েছে, তা বুঝতে আর কিছু বাকি নেই। খেলাধুলা থেকে বিনোদনজগৎ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—সর্বত্র নারীদের শতভাগ হিজাব পরাতে চায় সরকার। এর ব্যত্যয় হলে দেওয়া হচ্ছে শাস্তি। হিজাব না পরা এক নারীকে সেবা দেওয়ায় বহিষ্কার করা হয়েছে এক ব্যাংক ম্যানেজারকে।
ইরানের আধা-রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজের বরাতে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কোম রাজধানী তেহরানের পার্শ্ববর্তী একটি প্রদেশ। বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) প্রদেশটির একটি ব্যাংকের ম্যানেজার হিজাববিহীন এক নারী গ্রাহককে সেবা দেন। এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা সমালোচনা হয়। এ পরিস্থিতিতে ওই ম্যানেজারকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রদেশটির ডেপুটি গভর্নর আহমদ হাজিজাদেহ।
ব্যাংকটির নাম বা বহিষ্কৃত ম্যানেজারের নামধাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ইরানের অধিকাংশ ব্যাংক সরকার নিয়ন্ত্রিত। এসব ব্যাংকে হিজাব আইন বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব ম্যানেজারের।
যথাযথভাবে হিজাব না পরার অভিযোগে ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানে মাহসা আমিনি নামের এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করে দেশটির নৈতিকতা বিষয়ক পুলিশ। গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওই কুর্দি তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে কোমায় চলে যান। ১৬ সেপ্টেম্বর আমিনিকে মৃত ঘোষণা করে পুলিশ।
এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরাই মূলত বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তা পুরো দেশে সমাজের নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। নারীরা হিজাব খুলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মাথার চুল কেটে প্রতিবাদ জানায়।
নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন সত্ত্বেও এখনও বিভিন্ন মাত্রায় বিক্ষোভ চলছে। কয়েকটি এনজিওর তথ্যমতে, বিক্ষোভ শুরুর পর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩০০-এর বেশি সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রবাসী ইরানিরাও চলমান আন্দোলনের পক্ষে নানাভাবে সমর্থন জানাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের দমনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।