জাতিসংঘের প্রতিবেদন
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৪ ১৫:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪ ১৬:১৮ পিএম
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। ছবি : সংগৃহীত
বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর হাতে চলে যাওয়া গ্রামগুলোতে মরিয়া হয়ে হামলা জোরদার করছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। সেই সঙ্গে সেখানে চলছে শিরশ্ছেদ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতন। মিয়ানমারে জাতিসংঘের স্বাধীন মানবাধিকার তদন্তকারী সংস্থা নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
মিয়ানমারে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত সাবেক মার্কিন কংগ্রেসম্যান থমাস অ্যান্ড্রুজ গত শুক্রবার (২২ নভেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া প্রতিবেদনে বলেছেন, সামরিক পরাজয় ও ভূখণ্ড হারানোর প্রতিক্রিয়ায় জান্তা বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। যেসব শহর তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই সেগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।
বিশ্বের মনোযোগ অন্যদিকে নিবদ্ধ থাকায় মিয়ানমারকে ‘অদৃশ্য সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন থমাস অ্যান্ড্রুজ। তিনি বলেন, যেসব সরকার জান্তা বাহিনীকে অস্ত্র, সামগ্রী এবং জেট ফুয়েল দিচ্ছে এবং সক্রিয়ভাবে সমর্থন করছে, তাদের জন্যই মিয়ানমারের জনগণের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান নৃশংসতা চালানো সম্ভব হচ্ছে। তিনি অস্ত্র হস্তান্তর বন্ধ করার জন্য সিঙ্গাপুরের প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, জান্তা নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো সামরিক সরবরাহ চেইনকে ব্যাহত করেছে। তিনি জান্তা সরকারের কাছে অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধ, লাখ লাখ অভাবীর মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অপরাধীদের জবাবদিহিতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার মাধ্যমে মিয়ানমারের ‘বিধ্বংসী মানবাধিকার ও মানবিক সংকট’ মোকাবিলার জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। নির্মমভাবে অহিংস বিক্ষোভ দমন করতে করতে শুরু হওয়া সহিংসতায় দেশটি এখন বিপর্যস্ত। ফলস্বরূপ দেশজুড়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ ও লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়। সামরিক বাহিনী ক্রমবর্ধমান বিরোধীদের মোকাবিলা করতে এবং অঞ্চল সুরক্ষিত করার জন্য বিমান হামলাও চালিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের বেশিরভাগ অঞ্চলে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে গঠিত ‘পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস’ নামে পরিচিত সশস্ত্র গেরিলা গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তাদের সবার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে জান্তা সরকার।
সূত্র : রয়টার্স