প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৪ ১৬:৪৮ পিএম
আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৪ ১৭:১৮ পিএম
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন। ছবি : সংগৃহীত
৭০ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ও গির্জার আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহায়তা চাইতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া লাখো মানুষ ও তাদের পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এ ঐতিহাসিক ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
আশ্রয়হীন হয়ে অথবা মানসিক সহায়তার প্রয়োজনে রাষ্ট্র বা গির্জার কাছে সাহায্য চাইতে গিয়ে তারা হেনস্থার শিকার হয়েছে ও তাদের ওপর অত্যাচার হয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে নিউজিল্যান্ডের সাধারণ জনগণের অনেকেই।
চলতি বছরের জুলাইয়ে পাবলিক তদন্তের ভিত্তিতে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, ১৯৫০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র ও গির্জার মতো বিশ্বাসভিত্তিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে সহায়তা নিতে গিয়ে প্রায় ২ লাখ শিশু ও দুর্বল প্রাপ্তবয়স্করা কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর নিউজিল্যান্ডের সরকার এই অভিযোগ নিয়ে একটি কমিশন গঠন করে। এ কমিশনের রিপোর্টে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, সহায়তা চাইতে আসাদের প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন অত্যাচার বা হেনস্থার শিকার হয়েছে।
এর পরই নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। মঙ্গলবার ওয়ালিংটনের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে যখন লুক্সন নির্যাতিত ও তাদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাচ্ছিলেন তখন পার্লামেন্টের পাবলিক গ্যালারিতে নির্যাতনের শিকার প্রায় ২০০ ব্যক্তি ও তাদের পরিবার উপস্থিত ছিল ও তার কথা শুনছিল।
লুক্সন ৭০ বছর ধরে চলে আসা নির্যাতনের ঘটনাগুলোর উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি ভয়ংকর ছিল। এটি হৃদয়বিদারক ছিল। আর এটি কখনই হওয়া উচিত ছিল না। আজকে আমি সরকারের পক্ষ থেকে সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি যারা সেবা নিতে গিয়ে নির্যাতন, ক্ষতি ও অবহেলার শিকার হয়েছেন। আমি নিজের ও আমার পূর্ববর্তী সরকারদের পক্ষ থেকে নির্যাতনের শিকার সকলের কাছে ক্ষমা পার্থনা করছি।’
সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া