সিএনএনের জরিপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৪ ০৯:৪৬ এএম
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিস। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ৫ নভেম্বর নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ভোটের আগে দেশজুড়ে চূড়ান্ত জরিপ চালিয়েছে সিএনএন। এই জরিপে অবশ্য ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসের মধ্যে সমানে সমান লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর টেলিফোনে দেশজুড়ে নিবন্ধিত ১ হাজার ৭০৪ জন ভোটার জরিপে অংশ নেন। সিএনএনের তরফে এসএসআরএস এই জরিপ পরিচালনা করে। নির্বাচনী প্রচারের শেষ মুহূর্তে ডেমোক্র্যাট শিবিরের উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। কারণ নির্বাচনের আগেই সিএনএনের এই জরিপে ইতিবাচক-নেতিবাচক দুই বার্তাই মিলেছে। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ সময়ে দেশটির নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সরকার পরিচালনা ও দেশ যেভাবে চলছে, তা নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব আরও গভীর হয়েছে। সিএনএনের সর্বশেষ জরিপে প্রায় ৪৯ শতাংশ ভোটার বলেছেন, এক বছর আগের চেয়ে তারা অর্থনৈতিকভাবে খারাপ অবস্থায় আছেন। যেখানে মাত্র ১৬ শতাংশ ভোটার বলেছেন, গত ১২ মাসে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। জরিপ অনুসারে ৪৭ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলাকে এবং ৪৭ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের জরিপে কমলা ৪৮ শতাংশ ও ট্রাম্প ৪৭ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছিলেন। এবার ট্রাম্প যে কিছুটা হলেও সমর্থন বেশি পেয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
চলতি বছর নির্বাচন নিয়ে সিএনএন যত জরিপ চালিয়েছে, তার কোনোটিতেই ট্রাম্প কখনও প্রত্যাশিত ফলাফলের বাইরে যাননি। তিনি আরও দুবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করলেও এবারের মতো অবস্থানে আগে ছিলেন না। সিএনএনের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার তাদের সিদ্ধান্তে অটল আছেন। মাত্র ১৫ শতাংশ বলেছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের পছন্দ বদলেছে। যারা প্রার্থী ঠিক করেছেন তাদের ৫০ শতাংশ কমলাকে ও ৪৯ শতাংশ ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেন। মাত্র ১ শতাংশ অন্য প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন। নিবন্ধিত ভোটাররা কমলা (৪১ শতাংশ পছন্দ থেকে ৫২ শতাংশ অপছন্দ) ও ট্রাম্প (৪১ শতাংশ থেকে ৫৪ শতাংশ) উভয়ের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। ট্রাম্পের পক্ষে সমর্থন সেপ্টেম্বরের মতোই আছে প্রায়। কমলার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব সামান্য বেড়েছে। কমলাকে সমর্থন দেওয়া অর্ধেকের বেশি ভোটার বলেছেন, তারা ট্রাম্পের বিরোধিতা (৪৫ শতাংশ) করতে নয় বরং কমলাকে (৫৪ শতাংশ) সমর্থন করে তাকে ভোট দেবেন। তবে গত মাসের তুলনায় ট্রাম্পের বিরোধিতা করতে গিয়ে (কমলার প্রতি) ভোট ৫ পয়েন্ট বেড়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিকে এসে ট্রাম্পকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছেন কমলা, এটি এর প্রভাবে হতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের সমর্থকরা তার প্রতি জোরালো সমর্থন (৭৩ শতাংশ) জানিয়েছেন। তবে ১৬ শতাংশ বা তার থেকে কিছু বেশি ভোটার বলেছেন, দুই প্রার্থীর কেউই প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন। সবচেয়ে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, ২৯ শতাংশ ভোটার মনে করেন দুই প্রার্থীর কেউই সৎ ও বিশ্বস্ত নন। ১৯ শতাংশ বলেছেন, কোনো প্রার্থীই তাদের মতো মানুষদের কথা ভাবেন না।
স্বাধীন ভোটারদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্পের (৪১ শতাংশ) চেয়ে সামান্য এগিয়ে আছেন কমলা (৪৫ শতাংশ)। উভয় প্রার্থী নিজ নিজ দলের ভোটারদের থেকে শক্ত সমর্থন পেয়েছেন। ৯৩ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার কমলাকে ও ৯২ শতাংশ রিপাবলিকান ভোটার ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছেন। নারী ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের (৪৪ শতাংশ) থেকে এগিয়ে আছেন কমলা (৫০ শতাংশ)। ৩৫ বছরের কম বয়সি ভোটারদের মধ্যে কমলা ৫১ শতাংশ ও ট্রাম্প ৪১ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। এ ছাড়া কৃষ্ণাঙ্গ (কমলা ৭৯ শতাংশ, ট্রাম্প ১৩ শতাংশ), হিস্পানিক (কমলা ৫৪ শতাংশ, ট্রাম্প ৩৭ শতাংশ) ভোটারদের মধ্যে কমলা এগিয়ে আছেন। পুরুষ ভোটারদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয় ট্রাম্প। ৫১ শতাংশ পুরুষ ভোটার ট্রাম্পকে ও ৪৫ শতাংশ কমলাকে সমর্থন দিয়েছেন। শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্প (৫৫ শতাংশ, কমলা ৪১ শতাংশ) এগিয়ে। গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্প ৬৪ শতাংশ ও কমলা ৩১ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন।