প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:৩০ পিএম
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন থামছেই না। অবরুদ্ধ এই উপত্যকার এমন কোনো স্থান বাকি নেই যেখানে দখলদার বাহিনী হামলা চালায়নি। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় গত ৪৮ ঘণ্টার কমপক্ষে আরও ১১৫ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছে। এ ছাড়া এ সময় আহত হয়েছে আরও ৪৮৭ জন। এ নিয়ে আহতের সংখ্যা ছাড়াল ১ লাখ ২৮২ জনে।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তারা নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টায় আরও ১১৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে আরও ৪৮৭ জন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উত্তর গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছেন। ফিলিস্তিনি নাগরিকদের উদ্ধারের জন্য ইসরায়েলি বাহিনী উদ্ধারকারী দলকে সেখানে পৌঁছাতে বাধা দিয়েছে। এতে আরও মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈরুতের রফিক হারিরি ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের কাছে ইসরায়েলি হামলায় এক শিশুসহ ১৩ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৫৭ জন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, গাজা উপত্যকাজুড়ে ধ্বংস হওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১০ হাজারেরও বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছেন। মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সবাই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।
উল্লেখ, গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪২ হাজার ৭১৮ জন নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে আরও ১ লাখ ২৮২ জন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হয়েছে। বন্দি রয়েছে ২০০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি নাগরিক।