বিবিসির বিশ্লেষণ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:১৮ পিএম
ফ্লোরিডার পাম বিচ এলাকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বার হত্যাচেষ্টাকারী রায়ান রুথকে আটক করার পর এফবিআই ও সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা গত সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার সময় তোলা (এএফপি)
ফ্লোরিডার পাম বিচ এলাকায় দ্বিতীয়বারের মতো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে গত রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর)। ট্রাম্পের মালিকানাধীন গলফ ক্লাবে বন্ধু স্টিভ উইটকফের সঙ্গে কাটানোর সময় এ ঘটনা ঘটে। সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঝোপে ধাতব নল শনাক্ত করে এক বন্দুকধারীকে আটক করেন। আটক করার পর জানা যায় লোকটির নাম রায়ান ওয়েসলি রুথ। ট্রাম্পকে হত্যার জন্য তিনি ১২ ঘণ্টা ওই ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে ছিলেন। সন্দেহভাজন রুথ সেখানে দুটি ডিজিটাল ক্যামেরা, একটি কালো প্লাস্টিকের ব্যাগ ও আধা-স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। বন্দুকটি প্রায় ৪৪০ গজ দূরে থেকে গুলি করতে সক্ষম ছিল।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, গলফ খেলার সময় তিনি কাছাকাছি
চার থেকে পাঁচটি গুলির শব্দ শুনেছিলেন। এই ঘটনার পর সিক্রেট সার্ভিস চারটি গুলি
ছোড়ে, কিন্তু সন্দেহভাজন বন্দুকধারী পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায়
সন্দেহভাজনের গাড়ি শনাক্ত করার পর ফ্লোরিডার মার্টিন এলাকায় গ্রেপ্তার
করা হয়। ৫৮ বছর বয়সি রায়ান ওয়েসলি রুথের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে দুটি অভিযোগ আনা
হয়েছে। অতীতে রুথের ইউক্রেনে যুদ্ধে অংশগ্রহণের ইচ্ছার কথা জানা যায়। যদিও বয়সের
কারণে তাকে সেই যুদ্ধে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তবু তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে
স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা বারবার বলেছিলেন। এর আগেও রুথ অপরাধমূলক
কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ২০২২ সালে নর্থ ক্যারোলাইনার বাড়িতে একটি স্বয়ংক্রিয়
অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
মাত্র দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো হত্যাচেষ্টার ঘটনা
ট্রাম্পের চলমান নির্বাচনী প্রচারের সময়কালে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এমনকি
পাম বিচের বাসিন্দারাও এ ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ
নিরাপত্তা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেক মহলের দাবি, ট্রাম্প বারবার কেন
হত্যাচেষ্টার শিকার হচ্ছেন? দীর্ঘ এক দশক যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে উল্লেখযোগ্য
হামলার ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু বিগত দুই মাসে ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার পর থেকে নির্বাচনী
সহিংসতার বিষয়টি এখন স্পষ্ট। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বিষয়টিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির
নতুন স্বাভাবিকতা’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে
আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে সহিংসতা বেড়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলের মতবিভেদ এবং আগ্রাসী মন্তব্য
অনেক ভোটারের মনেও প্রভাব ফেলেছে। বন্দুক কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারকারী বেড়ে যাওয়ায়
অনেকে আবেগী হয়ে বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্প দুবার
হত্যাচেষ্টার শিকার হন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস জানিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে এমন সহিংসতার কোনো স্থান নেই।’ তিনি এমনটি বললেও বন্দুক হামলা বিগত কয়েক বছরে ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারাভিযান জানিয়েছে, ট্রাম্পের ওপর প্রায়ই হামলা হচ্ছে কারণ তিনি ভুলে যাওয়া মার্কিন সংস্কৃতির কথা বলেন। বিশেষত জুলাইয়ে প্রথমবার তাকে হত্যাচেষ্টার পর তিনি আহত অবস্থায় বলেন, ‘ফাইট, ফাইট, ফাইট!’ ওই বাক্য পরবর্তী সনময়ে তার নির্বাচনী প্রচারণার অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই ঘটনার পরও ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি দমে যাচ্ছেন না।