প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:২৫ পিএম
জাতিগত বৈচিত্রে ভরপুর মণিপুরে গত বছর মে মাস থেকে মেইতেই সম্প্রদায়ের হিন্দু এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী কুকি-চিন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। মাঝখানে কয়েক মাস খানিকটা থিতিয়ে এলেও সম্প্রতি ফের তীব্র রূপ নিয়েছে সংঘাত।
গত প্রায় দেড় বছরের সহিংসতায় উভয় সম্প্রদায়ের শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যে আজ মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ফলে সহিংসতা আরও বাড়ে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার তিন জেলায় কারফিউ কার্যকর করার আদেশ দিয়েছে। একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, মণিপুরের ইম্ফল পূর্ব ও ইম্ফল পশ্চিম জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারার অধীনে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
ইম্ফল পশ্চিম, ইম্ফল পূর্ব এবং থাউবাল জেলায় মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে কারফিউ জারি করা হয়। বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। কারফিউ আদেশে বাসিন্দাদের বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। গত সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু একদিনের ব্যবধানে পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় আবার কঠোরভাবে কারফিউ কার্যকর হয়েছে।
মণিপুরে আপাতত
কারফিউর অধীনে থাকা জেলাগুলোতে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিষেধাজ্ঞার
আওতার বাইরে রেখেছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর্মী, বিদ্যুৎ
ও পানীয় জল পরিষেবার কর্মী,
প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, এবং আদালতের কর্মচারীরা
বাইরে বেরুতে পারবেন।
অন্যদিকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে শিক্ষার্থীরা
ব্যাপক বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইম্ফল এবং থাউবাল জেলায় কারফিউয়ের আদেশ জারি
করার এটি অন্যতম কারণ। বিক্ষোভের মধ্যে একজন পুলিশ অফিসার গুলিবিদ্ধ হওয়ায়
থাউবালেও চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে মণিপুরের স্কুল এডুকেশনের ডিরেক্টর রাজ্যের সকল
স্কুল বন্ধ রাখা হয়। রাজধানী ইম্ফলে গভর্নরের
কার্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বড় ধরনের সংঘাত হয়। এরপর রাজ্য সরকার ৫ দিনের জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এক বিবৃতির মাধ্যমে। বিবৃতিতে বলা
হয়েছে,
‘অনিবার্য কারণে আজ (১০ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার) বিকেল ৩ টা থেকে
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ দিন রাজ্যজুড়ে লিজ লাইন, ভিএসএটি, ব্রডব্যান্ড
এবং ভিপিএনসহ সকল প্রকার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইম্ফলে মণিপুর রাজ্যের গভর্নরের কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ছিল শিক্ষার্থী-জনতার। সেই অনুযায়ী তারা দুপুর একটার দিকে মিছিল গভর্নর হাউসের কাছাকাছি পৌঁছালে সেখানে মোতায়েন থাকা পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। প্রায় এক ঘণ্টার সংঘর্ষ শেষে দুপুর ২টার কিছু পরে শিক্ষার্থী-জনতাকে পুরোপুরি ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। তার কিছুক্ষণ পরই ইন্টারনেট বন্ধের বিবৃতি দেয় মণিপুর রাজ্য সরকার। মঙ্গলবারের (১০ সেপ্টেম্বর) বিবৃতিতে ইন্টারনেট বন্ধের ঘোষণার পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। কোনো সংবাদমাধ্যম যেন ভুয়া বা মিথ্যা সংবাদ না ছড়ায় সে নির্দেশনা বিবৃতিতে দেওয়া হয়।
সূত্র: এনডিটিভি, লাইভমিন্ট