প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:১০ পিএম
দখলকৃত পশ্চিম তীর ও জর্ডানের মধ্যবর্তী এলাকা কিং জর্ডান ব্রিজে ইসরায়েলি প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ডের এক অভিযানে গতকাল রবিবার ৮ জন নিহত হয়। ছবিটি ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শেষে তোলা (আলজাজিরা)
পোলিও টিকাদান কর্মসূচির জন্য যুদ্ধবিরতির কথা থাকলেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের বিচ্ছিন্ন অভিযান বন্ধ করেনি। সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন নির্মূলের অভিযোগ এনে তারা গাজার পশ্চিম তীরে অভিযান চালাচ্ছে। গতকাল রবিবার গাজার একাধিক অঞ্চলে হামলায় ৩১ জন নিহত হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনিন শহরে সপ্তাহব্যাপী অভিযান পরিচালনার পর বাস্তুচ্যুতরা বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে।
আজ রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দখলকৃত পশ্চিম তীর ও জর্ডানের মধ্যবর্তী এলাকা কিং জর্ডান ব্রিজে ইসরায়েলি প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ডের হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়। এর মধ্যে হামলাকারী তিনজনই নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়েছে, কয়েকজন সশস্ত্র জঙ্গি জর্ডান সীমানা পেরিয়ে ফিলিস্তিনে প্রবেশ করে। মূলত সেখানকার কার্গো এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। ইসরায়েলি বাহিনী থেকে প্রথমে গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ করেছে ইসরায়েলি প্রাইভেট সিকিউরিটি বাহিনীর সদস্যরা। তারা পরবর্তীকালে জানায়, তিনজন তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে এবং তারা সেখানে এতদিন সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করছিল। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমে তিনজনের নাম প্রকাশ করা হয়। তিনজন হলো মালে ইফ্রেইম ক্যাম্পের ইয়োহানান শোরি, নামা ক্যাম্পের মালে ইফ্রেইম এবং আদ্রিয়ান মার্সেলো পদজামাচার। এই তিনজনই অবৈধ ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। জর্ডানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার তদন্ত করছে।
এই ঘটনার পরপরই আজ (৮ সেপ্টেম্বর) হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলার
ঘটনা প্রমাণ করে আরবরা ইসরায়েলি দখলদারিত্ব মেনে নেবে না। তাদের অপরাধ ও অন্যায়কে জর্ডানের
মানুষও মেনে নিচ্ছে না। ইসরায়েলের এয়ারপোর্ট অথরিটি জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের সঙ্গে জর্ডানের
ওই ক্রসিং ব্রিজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্যালেস্টাইন ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাবালিয়া আল-নাজলা এলাকার হালিমা আল সাদিয়া স্কুলে ইসরায়েলিরা হামলা চালায়। তাদের হামলায় স্কুলে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনিদের আবার পথে নামতে হয়। ওই হামলায় অন্তত ৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। একই দিন ইসরায়েলের বিমান হামলায় গাজা শহরের উত্তরে আমর ইবনে আল আস স্কুলে হামলা চালালে এক শিশুসহ চারজন নিহত হয়।
অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস
গ্রুপের এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, গত এক মাসে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অন্তত ১৭টি স্কুলে
হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় ২১৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেÑ যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
অর্থাৎ গাজায় নিরাপদ আশ্রয়স্থল স্কুলেও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালাচ্ছে। ফলে অসংখ্য
বাস্তুচ্যুত মানুষ সড়কে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলত ইসরায়েলি অভিযানে তাদের মৃত্যুঝুঁকি আরও
বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জেনিনে অভিযান পরিচালনার সময় ইসরায়েলি বাহিনী অনেককে
শহরের মূল হাসপাতালে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। অনেকে তাই স্কুল ও হাসপাতালে আশ্রয়
নিচ্ছিল। কিন্তু জেনিনে হামলার পরপরই তুলকারেমে অভিযান পরিচালনা শুরু হলে আরও মানুষ
মূল হাসপাতালে জড়ো হতে শুরু করে। ফলে বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা কঠিন
হয়ে ওঠে।