প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:৪৮ পিএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:১৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের বিহারের সারনে এক ‘ভুয়া চিকিৎসক’ ইউটিউব দেখে এক কিশোরের অস্ত্রোপচার করেছে। ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে কিশোরটির মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।
নিহত কিশোরটির নাম কৃষ্ণ কুমার। তার বয়স ১৫ বছর। কৃষ্ণ কুমারের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সে বেশ কয়েকবার বমি করলে তারা তাকে সারনের গণপতি হাসপাতালে নিয়ে যান। কৃষ্ণর বাবা চন্দন সাউ বলেছেন, ‘আমরা তাকে ভর্তি করার কিছুক্ষণ পরই তার বমি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ‘চিকিৎসক’ অজিত কুমার পুরি বলেন অস্ত্রোপচার করতে হবে। তিনি ইউটিউবে ভিডিও দেখে অস্ত্রোপচার করেন। এর কিছুক্ষণ পর আমার ছেলে মারা যায়।’
কৃষ্ণর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ওই ভুয়া চিকিৎসক ইউটিউব ভিডিওর ওপর নির্ভর করে তার পিত্তথলি থেকে পাথর বের করতে অস্ত্রোপচার করেন। তার অবস্থার অবনতি হলে ওই ‘চিকিৎসক’ তাকে দ্রুত বিহারের রাজধানী পাটনার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেন। পথিমধ্যেই কৃষ্ণর মৃত্যু হয়। ওই ‘চিকিৎসক’ ও তার সঙ্গীরা মরদেহ হাসপাতালে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
কৃষ্ণর দাদা প্রহ্লাদ প্রসাদ সাউ বলেছেন, ‘বমি বন্ধ হওয়ার পর সে ভালো অনুভব করছিল। কিন্তু ‘চিকিৎসক’ তার বাবাকে একটা কাজে বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে পরিবারের কারও সম্মতি না নিয়েই অস্ত্রোপচার শুরু করে দেয়। ছেলেটি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। আমরা যখন ‘চিকিৎসককে’ জিজ্ঞেস করলাম ও যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে কেন, তখন তিনি আমাদের দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করলেন আমরা ডাক্তার কি না। পরে সন্ধ্যার দিকে ছেলেটার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল। তারা সিপিআর দিয়ে তার নিঃশ্বাস ফিরিয়ে আনেন। তারপর তাকে নিয়ে ‘চিকিৎসক’ ও তার সঙ্গীরা পাটনার হাসপাতালে ছুটে যান। পথেই তার মৃত্যু হয়। তারা ছেলেটির মরদেহ হাসপাতালের সিঁড়িতে ফেলে রেখেই পালিয়ে যান।’
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা জানেন না ‘চিকিৎসকের’ আদৌ যথাযথ যোগ্যতা ছিল কি না। তারা বলেন, ‘আমাদের মনে হয় তিনি স্বঘোষিত ও নকল চিকিৎসক।’
অজিত কুমার পুরির যোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে তারা কৃষ্ণকে কেন তার কাছে নিয়ে গেল জানেতে চাওয়া হলে পরিবারের সদস্যরা বলেন, ‘আমরা শুধু চেয়েছিলাম বমি বন্ধ হয়ে যাক। কিন্তু তিনি আমাদের অনুমতি ছাড়াই এ অস্ত্রোপচার করেছেন।’
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। গণপতি সেবা সদনের স্বঘোষিত চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
সূত্র : এনডিটিভি