প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ২০:৪৮ পিএম
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু
বিরোধীদের বিরুদ্ধে ‘আর্থিক অভ্যুত্থান’ ঘটানোর চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু। বিদেশি অপশক্তির সঙ্গে যোগসাজশে সরকার পতন চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন মোহামেদ মুইজ্জু। একই সঙ্গে যারা ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছে এবং এভাবে সরকার ফেলার চেষ্টা করছে, তাদের সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আর্থিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুইজ্জুকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে মালদ্বীপের পুলিশ।
মালদ্বীপের স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড থেকে
বিদেশি লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দেয় মালদ্বীপের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বিএমল)। তাৎক্ষণিকভাবে
খবর ছড়িয়ে পড়ে, ব্যবহারযোগ্য ডলারের রিজার্ভ
ফুরিয়ে ‘মাইনাসে’ চলছে মালদ্বীপের রিজার্ভ। এমন আবহে জনগণের মধ্যেও আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক লেনদেন স্থগিত করা মানে দেশে কোনো রিজার্ভ নেই। এতে বিদেশি
বিনিয়োগ থেকে শুরু করে দেশের আমদানি-রপ্তানি থমকে যায়। ২০২২ সালে এমন পরিস্থিতি
হয়েছিল শ্রীলঙ্কায়। তবে কয়েক ঘণ্টা পরই ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড
থেকে বিদেশি লেনদেন স্থগিতের সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করে নেয় মালদ্বীপের কেন্দ্রীয়
ব্যাংক। দেশের এমন সঙ্গীন মুহূর্তে তাৎক্ষণিক নিজ দল
পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেসের (পিএনসি) সঙ্গে বৈঠকে বসেন মোহামেদ মুইজ্জু। তার অভিযোগ, কেন্দ্রীয়
ব্যাংক তার সঙ্গে পরামর্শ না করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এমন সিদ্ধান্ত
নেওয়ার ফলে মালদ্বীপে সংকট বাড়ে বলে জানান।
মুইজ্জু ও তার দল পিএনসির নেতাদের দাবি, বিএমএলের
ওই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে হাত রয়েছে বিরোধী দলগুলোর। সরকার এই প্রশ্নও তুলেছে যে, কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের রিজার্ভ ফুরিয়ে যাওয়ার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন
সাবেক অর্থমন্ত্রী। মুইজ্জু দাবি করেছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে
বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে মালদ্বীপে আর্থিক বিপর্যয় আনতে চাইছে বিরোধীরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার সঙ্গে পরামর্শ না করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তিনি জানার
পরপরই এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন। জানা গেছে, মালদ্বীপের
কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকারের নিয়োগ দেওয়া পরিচালক রয়েছেন মাত্র চারজন। অন্যদিকে
সরকারের বাইরে পরিচালক রয়েছেন পাঁচজন। ফলে ব্যাংকটিতে সরকারের একচেটিয়া প্রভাব
কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। এদিকে মালদ্বীপের অর্থমন্ত্রী
মোহাম্মদ সাঈদ অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশের আর্থিক অবস্থাকে ব্যাহত করার জন্য
নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মালদ্বীপের প্রধান বিরোধী দল মালদ্বীপিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি (এমডিপি)। দলটির চেয়ারপারসন ফয়েজ ইসমাইল বলেন, ‘অভ্যুত্থান যদি হয়, তাহলে তা সরকারের ভেতর থেকেই হবে এবং এর জন্য দায়ী থাকবে সরকারই। এতে বিরোধীদের কোনো হাত নেই।’
সূত্র: ইনডিয়ান এক্সপ্রেস