প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২২ ০৯:০৪ এএম
আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২২ ১০:১৩ এএম
উত্তর কোরিয়া গত দুই মাসে ৫০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি মোকাবিলায় নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা দিয়ে দৃঢ়ভাবে জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিএমবি) পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি মোকাবিলায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে জরুরি অধিবেশন আহ্বানের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সোমবার (২১ নভেম্বর) নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ নিয়ে আলোচনা করতে একত্র হচ্ছে।
শুক্রবার পিয়ংইয়ং ওয়াশিংটনকে ‘কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়া’র হুমকি দিয়ে হোয়াসং-১৭ নামে আইসিবিএম পরীক্ষা চালায়, যা ১৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ শনিবার জানিয়েছে, ‘কিম জং উন দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছেন যে যদি শত্রুরা হুমকি সৃষ্টি করতে থাকে, তাহলে আমাদের দল ও সরকার পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্রের দৃঢ় জবাব দেবে এবং সর্বাত্মক সংঘাতকে সম্পূর্ণরূপে মোকাবিলা করবে।’
কেসিএনএ জানায়, শুক্রবার উৎক্ষেপণ করা হোয়াসং-১৭-এর লক্ষ্য সবচেয়ে শক্তিশালী ও পরমাণু প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জন। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়া গত দুই মাসে ৫০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে এর বেশিরভাগই স্বল্পপাল্লার।
দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা বিরল এবং এটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। কারণ এসব ক্ষেপণাস্ত্র পরমাণু অস্ত্র বহনে এবং যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো জায়গায় আঘাত হানতে সক্ষম।
সর্বশেষ যে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে শুক্রবার, সেটি পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকেই ছোড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
এটি প্রায় ৬ হাজার ১০০ কিমি উচ্চতা দিয়ে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করেছে। এটি মহাকাশের বেশ উঁচু দিয়েই উড়ে গেছে।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসুকাজু হামাদা বলেছেন, এ ক্ষেপণাস্ত্রটির যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত করার ক্ষমতা আছে।
সব হিসাব-নিকাশ করে তারা দেখেছেন যে এটি ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরেও আঘাত করতে পারে। যদিও এটি নির্ভর করে কত ওজনের অস্ত্র সেটি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে তার ওপর।
কোরীয় উপত্যকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের জবাবে উত্তর কোরিয়া এমন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে আসছে।
তবে দেশটি নতুন ধরনের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যেটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও ক্ষমতাসম্পন্ন।
বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটির কয়েকটি পরীক্ষা সফল হয়নি। আর উত্তর কোরিয়াও পূর্ণমাত্রায় পরীক্ষার সুযোগ পায়নি।
এর আগে চলতি মাসেই আরেকটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল উত্তর কোরিয়া; কিন্তু সেটি সফল হয়নি বলেই দাবি করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া।
এসব অস্ত্র পরীক্ষাকে বৈধ প্রতিরক্ষা অধিকার বলে দাবি করে পিয়ংইয়ং। তবে এগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা হুমকি হিসেবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
শুক্রবারের উৎক্ষেপণের পর জাপানি প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেন, ‘আমার দেশ উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ জানিয়েছিল, যা অভূতপূর্ব প্রতিক্রিয়াসহ উসকানিকে পুনরাবৃত্তি করেছে।’
থাইল্যান্ডে এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ফোরামের শীর্ষ সম্মেলনে কিশিদা বলেন, ‘আমরা পিয়ংইয়ংকে বলেছি যে আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড একেবারেই সহ্য করতে পারি না।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যদি পিয়ংইয়ংয়ের লাগাম না টানতে পারে তাহলে উত্তর কোরিয়াকে একটি পরিষ্কার বার্তা দিতে প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
তবে শুক্রবারের উৎক্ষেপণের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি বাইডেন।