আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২২ ১০:৪২ এএম
আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২২ ১৩:৩৭ পিএম
ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত শিশু
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদের (পিআইজে) শীর্ষ কমান্ডারসহ অন্তত ১০জন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আহত হয়েছেন আরো অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বরাতে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে পিআইজে কমান্ডার তাইসির জাবারিসহ চারজন সদস্য এবং একটি পাঁচ বছর বয়সী কন্যাশিশুও ছিল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই সপ্তাহের শুরুতে প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদের (পিআইজে) একজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় পিআইজে’র হুমকি দিলে তারই প্রতিবাদে ইসরায়েল এ অভিযান চালায়।
প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় পিআইজে শতাধিক রকেট নিক্ষেপ করে। এর বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। এ সময়ে ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি শহরে সাইরেন শোনা যায়।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা শুক্রবার গভীর রাতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে পুনরায় হামলা শুরু করেছে।
আগেরদিন এক টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইয়ার ল্যাপিড বলেন, একটি তাৎক্ষণিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়েছে ফিলিস্তিনে।
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছে তারা এ সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থান চিহ্নিত করে হামলা চালিয়েছে। যার মধ্যে গাজার একটি টাওয়ারে হামলা চালানো হয়। এ হামলায় অন্তত ১৫ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আয়েলেট শেকড বলেছেন, এ সংকট কীভাবে দূর হবে জানি না, তবে এর জন্য সময় দরকার। ধারণা করা হচ্ছে, এ সংকট দীর্ঘ এবং কঠোর সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
পিআইজের মহাসচিব জিয়াদ আল-নাখালা বলেন, এ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জোরালো জবাব দেওয়া হবে। আর এ লড়াইয়ে জয় হবে আমাদের জনগণের।
অন্যদিকে, গাজা উপত্যকা শাসনকারী হামাসও একই সুরে জানিয়েছে, সশস্ত্র দলগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে ‘একত্রিত’ হয়েছে। তারা চুপ করে থাকবে না।
গত সোমবার রাতে, ইসরায়েল পশ্চিম তীর থেকে পিআইজে’র প্রধান নেতা নামে পরিচিত বাসেম সাদিকে গ্রেপ্তার করে। দেশটির চলমান গ্রেপ্তার অভিযানের অংশ হিসাবে জেনিন এলাকায় তাকে আটক করা হয়েছিল। ইসরায়েলি আরব এবং ফিলিস্তিনিদের আক্রমণের পর ১৭ জন ইসরায়েলি এবং দুইজন ইউক্রেনীয় নিহতের পর দেশটি এ গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
বাসেম সাদির গ্রেপ্তারের পর ইসরায়েল গাজার সীমান্তের কাছাকাছি বাসিন্দাদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। এ ছাড়া তারা সতর্ক করে যে পিআইজে বেসামরিক নাগরিক ও সৈন্যদের আক্রমণ করতে পারে।
ইরান সমর্থিত সংগঠন পিআইজে গাজার অন্যতম শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী। সিরিয়ার দামেস্কে এর সদর দপ্তর রয়েছে। এটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গুলিসহ অনেক রকেট হামলা পরিচালনা করেছে।
২০১৯ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল এবং পিআইজে পাঁচ দিনের দীর্ঘ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। এক পিআইজে কমান্ডারকে হত্যার পর এ সংঘর্ষ যুদ্ধ শুরু হয়। এ বিষয়ে ইসরায়েল বলেছিল, এ কমান্ডার দেশটিতে আক্রমণের পরিকল্পনা ছিল।এ সংঘর্ষে ৩৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়, আহত হন ১১১ জন ব্যক্তি।
/এনএস/