প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৪ ০৯:৩৯ এএম
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৪ ১২:৫৪ পিএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে উৎখাতের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মদদ আছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এমন অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি জানিয়েছে, হাসিনাকে উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে মার্কিন হস্তক্ষেপের অভিযোগ ‘কেবলই মিথ্যা’। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার (১২ আগস্ট) হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা ছিল না। একই সঙ্গে বাংলাদেশে মার্কিন হস্তক্ষেপের অভিযোগকে ‘কেবলই মিথ্যা’ বলেও অভিহিত করেছে হোয়াইট হাউস।
বাংলাদেশে সরকার উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারিন জ্যঁ-পিয়েরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আমাদের আদৌ কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে যদি কোনো প্রতিবেদনে বলা হয় বা গুজব ছড়ানো হয় তবে তা নিছক মিথ্যা।’
হোয়াইট হাউস সোমবার আরও বলেছে, ‘আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশি জনগণেরই বাংলাদেশ সরকারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা উচিত এবং আমাদের অবস্থান ঠিক এটাই।’
রবিবার (১১ আগস্ট) দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা তাদের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে বার্তা পাঠিয়েছেন। সে বার্তা দ্য প্রিন্টের হাতে এসেছে বলেও দাবি করা হয়।
দ্য প্রিন্ট হাসিনাকে উদ্ধৃত করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেছে কারণ তারা (যুক্তরাষ্ট্র) বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ চায়।
তবে পরবর্তী সময়ে হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেছেন, ‘তিনি (হাসিনা) কখনোই এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি।’
ছাত্র-জনতার তুমুল বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। এরপর সামরিক বিমানে করে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার শপথ গ্রহণ করেছে।
সূত্র : রয়টার্স