প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৪ ১০:০১ এএম
আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৪ ১০:৫৫ এএম
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী তাদের মিলিটারি ট্রাকে টুএসসেভেন নামক ক্ষেপণাস্ত্র বহন করছে। ছবিটি রাশিয়ার সীমান্তবর্তী সুমি এলাকার। ছবি : এএফপি
রাশিয়ার কয়েক ডজন সেনাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ইরান। তাদের স্বল্পপাল্লার ফাথ-৩৬০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় গোয়েন্দাদের দুটি সূত্র রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছেন। ওই সূত্র আরও জানিয়েছেন, তারা ধারণা করছেন, অবিলম্বে রাশিয়াকে কয়েকশ স্যাটেলাইটচালিত অস্ত্র দিতে যাচ্ছে ইরান। আর এসব অস্ত্র ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে ব্যবহার করবে রাশিয়া।
গত ১৩ ডিসেম্বর তেহরানে ইরানের কর্মকর্তা ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। এ চুক্তি মোতাবেক রাশিয়াকে ফাথ-৩৬০ এবং আরেকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দেবে তেহরান। এসব অস্ত্র তৈরি করেছে ইরানের সরকারি প্রতিষ্ঠান। স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় নাম গোপন রাখার শর্তে এমনটি জানিয়েছেন ওই গোয়েন্দা সূত্র। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। এ চুক্তি মোতাবেক রাশিয়াকে ফাথ-৩৬০ এবং আরেকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দেবে তেহরান। এসব অস্ত্র তৈরি করেছে ইরানের সরকারি প্রতিষ্ঠান অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশন (এআইও)। গোয়েন্দাসূত্রের খবর, রুশ সেনাদের একটি দল ফাথ-৩৬০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহারের কৌশল শিখতে ইরানে গিয়েছিল। এসব ক্ষেপণাস্ত্র সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার (প্রায় ৭৫ মাইল) দূরের লক্ষ্যে হামলা চালাতে পারে। বহন করতে পারে ১৫০ কেজি ওয়ারহেড।
এক গোয়েন্দাসূত্র বলছেন, প্রশিক্ষণ শেষে একটি বিষয়ই সামনে থাকে। সেটা হলো রাশিয়ার হাতে এ ক্ষেপণাস্ত্র তুলে দেওয়া। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন এক বিবৃতিতে রাশিয়াকে ‘দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদার’ উল্লেখ করে জানিয়েছে, ‘এর পরও নৈতিক কারণে ক্ষেপণাস্ত্রসহ যেকোনো অস্ত্র হস্তান্তর করা থেকে বিরত থাকে ইরান।’ এক গোয়েন্দাসূত্র বলছেন, প্রশিক্ষণের পর একমাত্র পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে রাশিয়ায় এ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘ইরানের পক্ষ থেকে রাশিয়ার কাছে এমন অস্ত্র সরবরাহ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো এবং ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭ দ্রুত ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে পিছপা হবে না।’
রাশিয়ার কাছে নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আছে। কিন্তু ইরান ফাথ-৩৬০ ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়াকে সরবরাহ করলে রাশিয়া যুদ্ধের সম্মুখসারি ছাড়িয়ে আরও দূরে নিজেদের অস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি কাছের অনেক নিশানায় ইরানি ওয়ারহেড ব্যবহার করতে পারবে, বলছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। কয়েক দিন ধরে রাশিয়ার পশ্চিমের কুরস্ক অঞ্চলে ব্যাপক হামলা হচ্ছে বলে খবর আসছে। রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের সেনারা রুশ সীমান্ত ভেদ করে সেখানে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। প্রথম দিকে কোনো মন্তব্য না করলেও হামলার কথা স্বীকার করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত শনিবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, ‘ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এ যুদ্ধকে আগ্রাসিদের অঞ্চলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’
সূত্র : বিবিসি