প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২২ ১১:৩০ এএম
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২২ ১৪:৩৭ পিএম
আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। ছবি : সংগৃহীত
নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় শুরু হওয়া আন্দোলনে এবার দেশটির ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির পৈতৃক বাড়িতে আগুন দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্তা সংস্থা এএফপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিও যাচাই করে ঘটনাটি নিশ্চিত হয়েছে।
পোস্ট করা ভিডিও ফুটেজ অনুসারে, দেশটির খোমেইন শহরে খোমেনির পৈতৃক বাড়িতে গভীর রাতে আগুন জ্বলতে এবং বিক্ষোভকারীদের মিছিল করতে দেখা গেছে।
যদিও ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম, খোমেনির বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা অস্বীকার করেছে। বরং বলেছে, বাড়িটির দরজা দর্শনার্থীদের জন্য খোলা।
মারকাজি প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর বেহনাম নাজারিকে উদ্ধৃত করে তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী বিপ্লব বিরোধী মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ইমাম খোমেনির ঐতিহাসিক বাড়ি পুড়িয়ে ফেলা সেই মিথ্যাগুলোর একটি।’
এএফপি যে বাড়িতে বিক্ষুব্ধদের আগুন দেওয়ার কথা বলছে, কথিত আছে—এ বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন খোমেনি। বাড়িটির অবস্থান খোমেইন শহরে হওয়ায় তার নামের উপাধি এ শহরের নাম থেকেই এসেছে।

বাড়িটিকে খোমেনির স্মৃতি জাদুঘর বানানো হয়েছে। তবে আগুন দেওয়ায় বাড়িটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির কট্টর সমালোচক, তাই তাকে ফ্রান্সে নির্বাসনে চলে যেতে হয়েছিল। ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর তিনি দেশে ফেরত আসেন।
১৯৮৯ সালে খোমেনি মারা গেলেও এখনও দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকাদের কাছে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন। বর্তমানে তার উত্তরসূরি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি প্রসঙ্গ এলেই খোমেনির প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেন না।
এদিকে ইরানে চলমান বিক্ষোভ দেশটির শাসকদের জন্য বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ থেকে এরই মধ্যে সরকার পতনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
তবে ইরানের শাসকগোষ্ঠী শুরু থেকেই চলমান বিক্ষোভের দায় চাপিয়েছে ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর।