প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৪ ১৬:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি হোটেল থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের সবাই বিদেশী নাগরিক বলে থাই পুলিশ বিবৃতিতে জানিয়েছে। তাদের সায়ানাইড পান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।
থাই সরকার বলছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন পর্যটনের উপর প্রভাব এড়াতে সব সংস্থাকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ব্যাংককের পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হোটেলকর্মীদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর গ্র্যান্ড হায়াত ইরাওয়ানে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন।
গ্র্যান্ড হায়াত ইরাওয়ান নামের এই হোটেলে সাড়ে তিনশর বেশি কক্ষ রয়েছে। এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন জেলায় অবস্থিত যা বিলাসবহুল কেনাকাটা ও রেস্তোরাঁর জন্য বিশিষ্ট।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছিলেন, গুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছে। কিন্তু পরে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এখানে গুলির কোনো চিহ্ন নেই।‘
এখন পুলিশ ধারণা করছে, হোটেলের যে কক্ষে এই বিদেশি নাগরিকরা ছিলেন সেখানে বিষের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ছয়জনেরই মৃত্যুর কারণ বিষক্রিয়া।
পুলিশ সন্দেহ করছে, টাকার বিরোধের জেরে মৃত ছয়জনের মধ্যে একজন চায়ে প্রাণঘাতী কেমিক্যাল মিশিয়েছিলেন।
থাই পুলিশের ফরেনসিক ডিভিশনের কমান্ডার ট্রিরং ফিওপান সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমরা চায়ের কাপে সায়ানাইড পেয়েছি। ছয় কাপেই আমরা সায়ানাইড পেয়েছি। ছয়জনের মধ্যে একজন সায়ানাইড এনেছিলেন। হোটেলের স্টাফরা চায়ের কাপ, দুটি গরম জলের বোতল, দুধ ও চায়ের পাত্র নিয়ে আসার পর কোনো এক ফাঁকে সায়ানাইড মেশানো হয়েছিল বলে ধারণা করছি।’
মৃতদের মধ্যে ভিয়েতনামের দুইজন মার্কিন নাগরিক ও চারজন ভিয়েতনামী নাগরিক রয়েছেন, যাদের বয়স ৩৭ থেকে ৫৬ বছর। তাদের তিনজন পুরুষ ও তিনজন মহিলা।
গণ আত্মহত্যার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছে পুলিশ। কারণ হিসেবে পুলিশ কর্মকর্তা ট্রিরং বলেছেন, ‘মৃতদের মধ্যে কয়েকজন থাইল্যান্ডে ভ্রমণের জন্য গাইড ও ড্রাইভারের ব্যবস্থা করেছিলেন। এ থেকে মনে করা হচ্ছে, তাদের আত্মহত্যার পরিকল্পনা ছিল না।
পুলিশ আরও উল্লেখ করেছে, মৃতদেহগুলো একই জায়গায় ছিল না। কেউ বেডরুমে এবং কেউ লিভিং রুমে ছিল, যা থেকে মনে করা হচ্ছে, তারা জেনেশুনে বিষ পান করেনি।
সূত্র : আল জাজিরা