প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৪ ২২:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চীনের দক্ষিণ উপকূলে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার বিষয়টি গত শুক্রবার নিশ্চিত করেছে চীন। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের বৈঠকের পর এবং জাপান মস্কোর সঙ্গে বেইজিংয়ের দৃঢ় সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়ে সতর্ক করার পর চীনের এই ঘোষণা আসে। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের সামরিক বাহিনী জুলাইয়ের শুরুতে জয়েন্ট সি-২০২৪ নামের এই মহড়া শুরু করেছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই মহড়া চলবে। মন্ত্রণালয় জানায়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় যৌথভাবে দুইপক্ষের সংকল্প ও সক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশের শহর ঝানপজিয়াংয়ের আশপাশের পানি ও আকাশসীমায় এই মহড়া চালানো হচ্ছে। এই মহড়া নতুন যুগের জন্য চীন-রাশিয়া সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও গভীর করবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুসারে, বেইজিং ও মস্কোর সামরিক
সম্পৃক্ততার বার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী এই মহড়া চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়া আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে এবং তাদের বন্ধুত্বের ‘কোনো
সীমা নেই’ বলে তারা বড়াই করে। ন্যাটোর সঙ্গে উভয় দেশেরই বৈরী সম্পর্ক রয়েছে। ন্যাটো নেতারা বুধবার এক ঘোষণায় বলেন, চীন ইউক্রেনে মস্কোর আক্রমণের ‘চূড়ান্ত
সহায়তাকারী’ হয়ে উঠেছে। জবাবে বেইজিং ন্যাটোকে ‘সংঘর্ষে উস্কানি দেওয়ার’ বিরুদ্ধে
সতর্ক করেছে। চীন বলছে, তারা
ইউক্রেন সংঘাতের কোনো পক্ষে নেই, তবে রাশিয়াকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন
দেওয়ার জন্য পশ্চিমা নেতারা চীনের সমালোচনা করেছেন। এই অর্থনৈতিক সমর্থনের মধ্যে
বেসামরিক ও সামরিক উভয় প্রকার কার্যক্রমের জন্য পণ্য বাণিজ্য রয়েছে।
ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে রাশিয়ার আরেক মিত্র বেলারুশের সঙ্গেও
চলতি সপ্তাহে মহড়া চালাচ্ছে চীনা বাহিনী। শুক্রবার জাপান জানায়, তাদের
ভূখণ্ডের কাছে চীন-রাশিয়ার যৌথ তৎপরতা ‘জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গভীর
উদ্বেগ’ সৃষ্টি করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহেই জার্মানির মাটিতে দূরপাল্লার
ক্ষেপণাস্ত্র বসানোর কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ন্যাটো জোটের দুই সদস্য রাষ্ট্রের এই
তৎপরতা নিয়ে শুক্রবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির
পুতিনের সরকারের অভিযোগ,
এর ফলে ইউরোপের মাটিতে আবার ঠান্ডা যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি গত বৃহস্পতিবার
ওয়াশিংটনে ন্যাটোর বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের কথা
জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৬
সালের গোড়া থেকে জার্মানির মাটিতে পর্যায়ক্রমে টোমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক
ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী এসএম-৬ এবং হাইপারসনিক (শব্দের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি
গতিবেগসম্পন্ন) ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের কাজ শুরু হবে। এ
পরিস্থিতিতে জার্মানির মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে
হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ। তিনি বলেন, ‘এর
ফলে আবার কোল্ড ওয়ার এবং প্রত্যক্ষ সঙ্ঘাতের পরিস্থিতি
তৈরি হবে।’ ওয়াশিংটনে ন্যাটোর ওই বৈঠকে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের বিষয়ে ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের
সঙ্গেও সমঝোতা করেছেন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস। সূত্র
: বিবিসি