প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৪ ২১:৪৭ পিএম
সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ হ্রাস ঘটলেও জান্তা সরকার অভিযান অব্যাহত রেখেছে (সংগৃহীত)
ক্রমেই শক্তি হারাচ্ছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দেশটিতে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। বিগত আড়াই বছরে সশস্ত্র বিদ্রোহের কারণে দেশটি ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই সংঘর্ষ চলতে থাকলে মিয়ানমার রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যাবে। জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক দূত গত বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মিয়ানমারের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘জান্তা সরকারের ওপর চাপ বেড়েছে। তারা জনবল, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ হ্রাসের পাশাপাশি ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণও হারাচ্ছে। এরপরও তারা নিজ অবস্থান থেকে সরছে না। ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়া তো দূর, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আপস রফাতেও যাচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আবার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হামলাও প্রতিহত করতে পারছে না। গত প্রায় ১০ মাস ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জান্তা বাহিনী এবং তাদের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। এসব হামলার জবাবে জান্তা বাহিনী যেসব পাল্টা হামলা চালাচ্ছে, তাতে মারা যাচ্ছে মূলত বেসামরিক লোকজন।’
নিজের হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে গিয়ে তিনি সতর্ক করার জন্য বলেন, ‘যদি
এই অবস্থা চলতে থাকে,
তাহলে অদূর ভবিষ্যতে মিয়ানমার নামে কোনো একক রাষ্ট্রের
অস্তিত্ব আর থাকবে না। এ ব্যাপারটি জান্তাও বুঝতে পারছে; কিন্তু
তারপরও তারা শান্তি স্থাপনে উদ্যোগ নিচ্ছে না। তাদের এই ভূমিকা মিয়ানমারের জন্য
ধ্বংস ডেকে আনবে।’
গত বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে টম অ্যান্ড্রুজ বলেন, গত ছয়
মাসে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনীর পরিচালিত হামলায়
মিয়ানমারের বিভিন্ন প্রদেশের বহু স্কুল, হাসাপাতাল এমনকি বৌদ্ধ মঠ ও
সন্ন্যাসীদের আশ্রমও ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি যোগ করেন, ‘আমরা এখানে বসে যেমনটা ভাবছি, মিয়ানমারের
বর্তমান অবস্থা তার চেয়েও অনেক, অনেকগুণ খারাপ।’ সূত্র
: এএফপি