প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২২ ১২:৫৯ পিএম
আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২২ ১৪:৫০ পিএম
ওরিয়নের পাঠানো ছবিতে আমাদের পৃথিবী। ছবি : সংগৃহীত
আর্টেমিস ১ মিশনের অংশ হিসেবে এসএলএসে চড়ে এরই মধ্যে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছে মহাকাশযান ওরিয়ন।
মহাকাশে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ওরিয়ন মহাকাশযান পৃথিবীর একটি চিত্তাকর্ষক ছবি ধারণ করেছে এবং নাসার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এ ছবি ধারণের ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে।
যেখানে আর্টেমিস প্রকল্পে নাসার মুখপাত্র সান্ড্রা জোনসকে বলতে শোনা যায়, ‘মহাকাশে অন্ধকারে আমাদের নীল মারবেলের (পৃথিবী) দৃশ্যগুলো এখন একটি নতুন প্রজন্মের কল্পনাকে ধারণ করছে আর্টেমিস প্রজন্ম।’
জোনস বলছিলেন, ‘মহাকাশ যান থেকে পৃথিবীর এ দৃশ্য সবশেষ দেখা গিয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে, ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো মিশনের সময়।’
ওরিয়নের সৌর এনার্জি ক্ষমতাসম্পন্ন চারটি উইংয়ে (ডানায়) বিশেষ ধরনের ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল; যা মহাকাশযানের বাহ্যিক দৃশ্যের ছবি তুলতে সক্ষম। আর পুরো মহাকাশযানটির মধ্যে মোট ২৪টি ক্যামেরা বসানো।
এর আগে ফ্লোরিডায় নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে (১৬ নভেম্বর) সফলভাবে উৎক্ষেপিত হয়েছে ওরিয়ন মহাকাশযান বহন করা আর্টেমিস ১ মিশনের স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেট। মানুষের চন্দ্রাভিযানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের সফল শুরু এটি।
স্থানীয় সময় ১টা ৪৭ মিনিটে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় রকেটটিকে।
এ সময় উৎক্ষেপণটি দেখতে ফ্লোরিডার উপকূলে জড়ো হয়েছিল হাজার হাজার মানুষ। সফল উৎক্ষেপণে উচ্ছ্বসিত সবাই। নিজেদের ইউটিউব অ্যাকাউন্টে লাইভে সরাসরি উৎক্ষেপণ দেখার সুযোগ করে দিয়েছিল নাসা। ইউটিউবে কমেন্ট বক্সে অনেকেই নাসাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
এর আগে দুবার প্রস্তুতি নিলেও শেষ মুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎক্ষেপণ পরিকল্পনা বাতিল করে নাসা। অবশেষে উৎক্ষেপণে সফলতা অর্জন করল।
তবে এ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে ওরিয়ন মহাকাশযানে কোনো নভোচারী থাকছে না।
আর্টেমিস ১ মিশনের উদ্দেশ্য কেবল মহাকাশে মানুষ পাঠানো নয়। এটি চাঁদে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করে তোলার পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপ।
২০২৫ সালের মধ্যে চাঁদে ফিরতে চায় নাসা। এবার সেখানে ঘুরে আসতে নয়, স্থায়ীভাবে থাকতে চায় তারা। প্রথমবারের মতো এ মিশনে চাঁদের বুকে পা রাখবেন একজন নারী নভোচারী। এর আগে অ্যাপোলো মিশনগুলোয় কোনো নারীকে পাঠানো হয়নি।
আগের চন্দ্রাভিযানের নামকরণ হয়েছিল গ্রিক চন্দ্রদেবতা অ্যাপোলোর নামানুসারে।
এবার যেহেতু চাঁদে প্রথম নারীর পদচিহ্ন পড়তে যাচ্ছে, তাই অ্যাপোলোরই যমজ বোন আর্টেমিসের নামে এ মিশনের নামকরণ হয়েছে।
১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ দিয়ে শুরু হওয়া পরবর্তী পাঁচটি মিশনে মোট ১০ জন নভোচারী চাঁদের বুকে হেঁটেছেন।