প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২২ ২০:৩৮ পিএম
বাংলাদেশে ঢোকছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। ২০১৭ সালের আগস্টে তোলা। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমসহ অন্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। বুধবার (১৬ নভেম্বর) অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যৌথভাবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে।
১০৯টি রাষ্ট্র প্রস্তাবটির সহউত্থাপক। ২০১৭ সালের পর, এই প্রথম জাতিসংঘের কোন প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিল সর্বোচ্চ সংখ্যক রাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবটিতে প্রাথমিকভাবে মিয়ানমারে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করা হয়। এতে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ বের করে, রোহিঙ্গারা যাতে নিজভূমি মিয়ানমারের স্বপ্রণোদিত হয়ে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানে ফিরে যেতে পারে, সেজন্য রাখাইনে সেই অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা আহ্বান জানানো হয়।
প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনার সময় বাংলাদেশের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায়, তারা শরণার্থী শিবিরে বাস করছে। তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংহতি পাওয়া উচিত। মানবিক সহায়তা পরিকল্পনায় পর্যাপ্ত তহবিল প্রয়োজন।’
এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স কার্যালয় জানায়, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা উপস্থিতি দীর্ঘায়িত না করতে এই গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার ইস্যুটি উত্থাপনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ায় ওআইসি ও ইইউর প্রতি আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আমরা মানবিক বিবেচনায় নিজ ভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় প্রদান করেছি। তাদেরকে মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে।
গৃহীত প্রস্তাবটিতে জাতিসংঘের মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ও জাতিসংঘের সকল মানবাধিকার ম্যাকানিজমের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও মানবিক সংকট সমাধানে প্রতিবেশী দেশ ও আসিয়ানের মতো আঞ্চলিক জোটগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয় প্রস্তাবটিতে। আসিয়ানের ৫দফা প্রস্তাব দ্রুত বাস্তাবনের আহ্বান জানানো হয়।
তাছাড়া চলমান বিচার ও জবাবদিহিতার প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা ও প্রোসিকিউশন অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের তদন্তের অগ্রগতিকেও স্বাগত জানানো হয় জাতিসংঘের রোহিঙ্গা বিষয়ক প্রস্তাবটিতে।
প্রস্তাবটিতে বাংলাদেশের সাথে সংহতি প্রকাশ করা হয়। এতে বাংলাদেশের মানবিক উদ্যোগ এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে আইসিসি, আইআইএমএম ও অন্য মেকানিজমের সঙ্গে অব্যাহত সহযোগিতাকে স্বাধুবাদ জানানো হয়।