× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যুক্তরাজ্যে নির্বাচন

টিউলিপ ও রুশনারাকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন ব্রিটেনে

প্রবা প্রতিবেদক, লন্ডন থেকে

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৪ ০৮:৫২ এএম

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৪ ০৮:৫৫ এএম

টিউলিপ ও রুশনারাকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন ব্রিটেনে

দীর্ঘ ১৪ বছর পর যুক্তরাজ্যে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে লেবার পার্টি। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়া দেশটির সাধারণ নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে দলটি। ৬৫০ আসনের মধ্যে লেবার পার্টি জয় পেয়েছে ৪১২ আসনে। বিপরীতে কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ১২১ আসন। যার মধ্য দিয়ে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। এদিকে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার নারী। এর আগেও তারা যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচিতরা হলেন- রুশনারা আলী, রূপা হক, টিউলিপ সিদ্দিক ও আপসানা বেগম। তাদের জয়ের মধ্য দিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে ব্রিটেনে বসবাসরত বাঙালিরা। এদিকে আলোচনা আছেÑ চারজনের মধ্যে মন্ত্রিত্বও পেতে পারেন এক বা দুজন। এই তালিকায় এগিয়ে আছেন টিউলিপ সিদ্দিক ও রুশনারা আলী। রীতি অনুসারে ছায়া মন্ত্রিসভায় যারা থাকেন দল সরকার গঠন করলেই তাদের অনেকেই সাধারণত মন্ত্রিত্ব পান। যদিও গতকাল শুক্রবার রাত ১টা পর্যন্ত ঘোষিত নতুন মন্ত্রিসভার ১৪ জনের মধ্যে ছিলেন না তারা দুজন। টিউলিপ ও রুশনারা লেবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভায় ছিলেন। এদিকে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেলেন কিয়ার স্টারমার

বিপুল ব্যবধানে জয় পাওয়া লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ব্রিটেনের রাজা দ্বিতীয় চার্লস। গতকাল শুক্রবার ফল ঘোষণার পর বাকিংহাম প্রাসাদে রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান স্টারমার। এ সময় রাজা দ্বিতীয় চার্লস তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন।

বাকিংহাম প্রাসাদের প্রকাশ করা একটি ছবিতে দেখা গেছে, রাজা চার্লস স্টারমারের সঙ্গে করমর্দন করছেন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ঋষি সুনাকের পদপত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। এ ছাড়া কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানের পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সদ্য সাবেক এই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচনে লেবার পার্টির কিয়ার স্টারমারের কাছে পরাজয় স্বীকার করে ঋষি সুনাক প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনে পরাজয়ের দায় মেনে নিচ্ছি। আজকের দিনে সব পক্ষের মঙ্গলের জন্য ক্ষমতা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে হাত বদল করব।’

ব্রিটেনকে আমরা পুনর্গঠিত করব, প্রথম ভাষণে স্টারমার

বিপুল বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর সরকারি বাসভবন ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া প্রথম ভাষণে দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার।

বক্তব্যে তিনি বলেন, এখন নতুন করে দেশ গড়া প্রয়োজন। আমরা কে তা নতুন করে আবিষ্কার করার সময় এসেছে। পরিবর্তনের এই কাজ দ্রুতই শুরু হয়ে যাবে। কোনো সন্দেহ নেই, ব্রিটেনকে আমরা পুনর্গঠিত করব।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। রাজনীতিকে জনগণের সেবায় ফিরিয়ে দিয়েছে। 

তবে এই পরিবর্তনের জন্য যে সময় লাগবে সেটি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দেশকে পরিবর্তন করা সুইচ টেপার মতো কোনো বিষয় নয়। এর জন্য সময় প্রয়োজন। তবে সেই কাজ দ্রুতই শুরু হবে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্স-এ স্ত্রীর সঙ্গে ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দাঁড়িয়ে একটি ছবির সঙ্গে তিন লাইনের একটি পোস্ট দেন। সেটিতে লিখেছেনÑ আমার সরকার আপনাদের সেবায় কাজ করবে। ভালো কাজের শক্তি হতে পারে রাজনীতি। পরিবর্তনের কাজ শুরু হবে আজ থেকে।

এ ছাড়া তিনি দেশের প্রথম ব্রিটিশ-এশীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঋষি সুনাকের অর্জন, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তার নিষ্ঠা এবং পরিশ্রমের বিষয়েও কথা বলেন। 

কিয়ার স্টারমার : আইনজীবী থেকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী

মাত্র ১৬ বছর বয়সে লেবার পার্টির যুব শাখায় যোগ দেওয়া কিয়ার স্টারমার কর্মজীবন শুরু করেন আইনজীবী হিসেবে। ১৯৬২ সালে লন্ডনে জন্ম নেওয়া স্টারমার চার বছর আগে লেবার পার্টির নেতা হিসেবে কট্টর বামপন্থি রাজনীতিবিদ জেরেমি করবিনের স্থলাভিষিক্ত হন। আইন পেশার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন ‍দায়িত্ব পালনের পর ২০১৫ সালে লেবার পার্টির মনোনয়ন নিয়ে হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসন থেকে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হন। 

লিডস ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষে ব্যারিস্টার হিসেবে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন তিনি। ওই সময় ক্যারিবীয় ও আফ্রিকার দেশগুলোয় মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্তির জন্য সোচ্চার হন তিনি। নব্বইয়ের দশকে ম্যাকডোনাল্ডসের দায়ের করা মামলায় দুই পরিবেশ আন্দোলনকারীর প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ২০০৮ সালে কিয়ার স্টারমার পাবলিক প্রসিকিউশনের ডিরেক্টর এবং ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালে তাকে নাইট উপাধি দেওয়া হয়। 

অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকলাপ নজরে রাখার জন্য জেরেমি করবিন তাকে শ্যাডো হোম সেক্রেটারি বা ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। এ ছাড়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে যুক্তরাজ্য ভোট দেওয়ার পরে স্টারমারকে শ্যাডো ব্রেক্সিট মন্ত্রী হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া হয়।

চার বাঙালি নারীর জয়

এবার যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি থেকে আটজন, কনজারভেটিভ পার্টি থেকে দুজনসহ অন্যান্য দলের মনোনয়নে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রেকর্ডসংখ্যক ৩৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যাদের প্রচার ঘিরে দেশটিতে অভিবাসী ও প্রবাসী মিলে ১০ লাখের বেশি ব্রিটিশ-বাংলাদেশির মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। তবে গতবারের চার নারীর বাইরে নতুন করে কেউ জয় পায়নি। তারা হলেনÑ রুশনারা আলী, রূপা হক, টিউলিপ সিদ্দিক ও আপসানা বেগম।

২০১০ সালে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে রুশনারা আলী টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনালগ্রিন অ্যান্ড বো আসন থেকে নির্বাচিত হন। এই আসন থেকে এবারসহ টানা পাঁচবার জয় পেলেন তিনি। রুশনারা এবার ১৫ হাজার ৮৯৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্বতন্ত্র প্রার্থী আজমল মাশরুর। তিনি পেয়েছেন ১৪ হাজার ২০৭ ভোট। রুশনারা আলী ২০১০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক ছায়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এরপর তিনি ২০১৩ সালের অক্টোবরে ছায়া শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক এবারের নির্বাচনে দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট আসন থেকে লেবার পার্টির মনোনয়নে ২৩ হাজার ৪৩২ ভোট পেয়ে টানা চতুর্থবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির ডন উইলিয়ামস পেয়েছেন ৮ হাজার ৪৬২ ভোট। ২০১৫ সালে টিউলিপ সিদ্দিক প্রথম যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক। ২০১৬ সাল থেকে তিনি ছায়া শিক্ষামন্ত্রী, সর্বদলীয় পার্লামেন্টারি গ্রুপের ভাইস চেয়ার, নারী ও সমতা নির্বাচন কমিটির সদস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন। ১৬ বছর বয়সে লেবার পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া টিউলিপ ২০১০ সালে ক্যামডেন কাউন্সিলের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। 

ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসন থেকে টানা চতুর্থবার লেবার পার্টির মনোনয়নে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন রূপা হক। এবারের নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ২২ হাজার ৩৪০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী জেমস উইন্ডসর ক্লাইভ। তিনি পেয়েছেন ৮ হাজার ৩৪৫ ভোট। ২০১৫ সালে লেবার পার্টির মনোনয়নে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন রূপা হক। এরপর টানা তিনবার তিনি পশ্চিম লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসন থেকে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে লেবার পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান রূপা হক। 

টাওয়ার হ্যামলেটসের পপলার অ্যান্ড লাইমহাউস আসন থেকে লেবার পার্টির মনোনয়নে দ্বিতীয়বারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আপসানা বেগম। তিনি পেয়েছেন ১৮ হাজার ৫৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী গ্রিন পার্টির নাথালি বেইনফিট পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৭৫ ভোট। ২০১৯ সালে আপসানা লেবার পার্টির মনোনয়নে প্রথম পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। ওয়েস্টমিনস্টার পার্লামেন্টে তিনিই প্রথম হিজাব পরিহিত সংসদ সদস্য। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সোচ্চার ভূমিকা পালন এবং গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিয়ে আলোচনায় আসেন।

আশা আছে মন্ত্রিত্ব নিয়ে

আলোচনা ছিল, বাংলাদেশি চার বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপির মধ্য থেকে মন্ত্রিত্বও পেতে পারেন এক বা দুজন। তালিকায় এগিয়ে ছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক ও রুশনারা আলী। রীতি অনুসারে ছায়া মন্ত্রিসভায় যারা থাকেন তাদের অনেকেই দল সরকার গঠন করলে মন্ত্রিত্ব পান। টিউলিপ ও রুশনারা লেবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভায় ছিলেন। সে হিসেবে তাদের মধ্যে একজন বা দুজনেরই মন্ত্রিসভায় ডাক পড়তে পারে। গতকাল শুক্রবার রাত ১টা পর্যন্ত এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৪ মন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ব্রিটেনের রাজনীতি সচেতন বাঙালিরা আশা করছেন, এবার হয়তো বাঙালিদের মধ্যে থেকে নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান হতে পারে কারও।

ব্রিটেনে বাঙালিদের উচ্ছ্বাস

প্রায় ৩৭ ধরে ব্রিটেনে বসবাস করছেন অ্যাকাউন্টেন্ট আবু তাহের। তিনি বলেন, ২০১০ সালে রুশনারা আলীর জয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বপ্ন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন। এখন সেই স্বপ্ন আরও ডালপালা মেলেছে। এবারও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চারজন নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসায় আমরা এবার স্বপ্ন দেখছি এই চারজনের যে কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। যতদূর মনে হয় আমরা এখন সেই স্বপ্ন পূরণের খুব কাছেই রয়েছি। 

ব্যবসায়ী শাহেদ চৌধুরী মনে করেন, পাঁচবারের এমপি রুশনারা আলীকে দিয়েই বাঙালির সেই স্বপ্ন পূরণ হবে। আশা করি লেবার পার্টি তাকে সেই সম্মান দেবে। পূর্ব লন্ডনের অধিবাসী শামসুল হক এহিয়া বলেন, ব্রিটেনে বসবাসকারী অনাবাসী বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই লেবার পার্টির ভোটার। এবার সরকার গঠন করে লেবার পার্টিরও উচিত তাদের গুরুত্ব দিয়ে চারজন এমপির যে কাউকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া।

মন্ত্রিসভার ডাক 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের পরিবর্তনের ডাক দেওয়া কিয়ার স্টারমার মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু করেন গতকাল স্থানীয় সময় বিকাল থেকেই। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটে বিকাল থেকে একে একে মন্ত্রিসভার সদস্যদের ডাক পড়ে।

মন্ত্রিসভার প্রথম সদস্য হিসেবে ঘোষণা আসে অ্যাঞ্জেলা রাইনারের নাম। তাকে উপপ্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি হাউজিং ও কমিউনিটিস মন্ত্রী করা হয়। এ ছাড়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হয়েছে জন হিলিকে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন র‌্যাচেল রিভস। ব্রিটেনের ৮০০ বছরের ইতিহাসে র‌্যাচেলই প্রথম নারী, যিনি এই পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ডেভিড ল্যামিকে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, আইন, শিক্ষা ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন যথাক্রমে ইয়েভেট কুপার, ওয়েস স্ট্রিটিং, শাবানা মাহমুদ, ব্রিজেট ফিলিপসন ও জোনাথন রেনল্ডস। যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কারও স্থান হবে কি না, এ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। তবে মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাঙালি লিসা নন্দী। সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, তাকে সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।

নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনার চিঠি

যুক্তরাজ্যের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করা লেবার পার্টি এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া দলটির প্রধান কিয়ার স্টারমারকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল শুক্রবার লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন চিঠিটি যুক্তরাজ্যের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে শেখ হাসিনা লিখেছেন, এই দ্ব্যর্থহীন ম্যান্ডেট আপনার দেশকে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি জোরদার করার জন্য আপনার নেতৃত্বের প্রতি ব্রিটিশ জনগণের আস্থার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় লেবার পার্টি ও দলের আইকনিক নেতা স্যার হ্যারল্ড উইলসন, টমাস উইলিয়ামস সিকে ও লর্ড পিটার শোরের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার দল আওয়ামী লীগের স্থায়ী বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন; যা প্রকৃতপক্ষে দুই দেশের গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল আকাঙ্ক্ষার অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ককে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর গড়ে তুলেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার সরকার আমাদের দুই কমনওয়েলথ দেশের পারস্পরিক স্বার্থে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, জলবায়ু ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার জন্য আপনার লেবার পার্টি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য উন্মুখ।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; একসঙ্গে আমরা আমাদের দুই দেশের কল্যাণে ৭ লাখের বেশি প্রাণবন্ত ও উদ্যোগী বাংলাদেশি-ব্রিটিশ প্রবাসীদের অমূল্য অবদানকে কাজে লাগানোর প্রয়াস চালিয়ে যাব।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা