প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৪ ২১:৪৯ পিএম
আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৪ ০৯:৫৬ এএম
যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে
স্যার কিয়ের স্টারমার-এর নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি। দীর্ঘ ১৪ বছর পরে লেবার পার্টি আবারও ব্রিটেনের রাষ্ট্রক্ষমতায়। প্রধানমন্ত্রী
হতে যাচ্ছেন স্যার কিয়ের স্টারমার। ঠিক চার বছর আগে বামপন্থি রাজনীতিবিদ জেরেমি
করবিনের জায়গায় লেবার পার্টির নেতৃত্ব পান কিয়ের স্টারমার। নেতৃত্ব পাওয়ার পর থেকেই
তিনি দলকে জয়ী করার লড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বদলের হাওয়া
আনা এই নেতার পরিচয় কী?
১৯৬২ সালে দক্ষিণ-পূর্ব
ইংল্যান্ডের সারেতে এক শ্রমিকের ঘরে জন্ম তার। কিয়েরমার বাদেও পরিবারে ছিল আরও তিন
সন্তান। বাবা কারখানার সরঞ্জাম প্রস্তুতের কাজ করতেন। মা ছিলেন নার্স। লেবার পার্টির
কট্টর সমর্থক ছিল তার পরিবার। পরিবারে বাবা একটু দূরত্বই রেখে চলতেন। ওদিকে কিয়েরমারের
মা জীবনের দীর্ঘকাল ‘স্টিলস ডিজিজ’ নামক
একধরনের অটো-ইমিউন ডিজিজে ভোগার কারণে আস্তে আস্তে চলাচল ও বাকশক্তি হারান।
১৬ বছর বয়সে লেবার পার্টির স্থানীয় যুব শাখায় যোগ দেন
কিয়ের স্টারমার। কয়েক দিন উগ্র বামপন্থি এক পত্রিকার সম্পাদনা
করেন। কিয়েরমারের পরিবারের আর কেউ তার মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ দেখেনি। লিডস ও অক্সফোর্ডে আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষে
ব্যারিস্টার হিসেবে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন। ক্যারিবিয়ান ও আফ্রিকার দেশগুলোতে
মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্তির জন্য কাজ করেন। ১৯৯০-এর
দশকে ম্যাকডোনাল্ডসের দায়ের করা এক বিখ্যাত
মামলায়
তিনি দুজন ইকো-অ্যাক্টিভিস্ট বা পরিবেশ আন্দোলনকারীর
প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ২০০৮ সালে স্যার কিয়ের পাবলিক
প্রসিকিউশনের ডিরেক্টর এবং ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব
পালন করেছেন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি চাকরি করেন। ২০১৪ সালে পান নাইট উপাধি।
রাজনীতিতে কিয়েরমারের যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালে। কট্টর বাম রাজনীতিবিদ জেরেমি করবিনের নেতৃত্বে লেবার পার্টি তখন বিরোধী দলের ভূমিকায়। অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকলাপ নজরে রাখার জন্য স্যার কিয়েরকে ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন জেরেমি করবিন। পরে তাকে শ্যাডো ব্রেক্সিটমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর লেবার পার্টির নেতা হন স্যার কিয়ের। দলটির সবচেয়ে বাজে সময় যাচ্ছিল তখন। তবে জল ও জ্বালানি কোম্পানির জাতীয়করণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষাদানের পক্ষে কথা বলে একটা বামপন্থি প্ল্যাটফর্মে লেবার পার্টির নেতা হিসেবে জয়লাভ করেন স্যার কিয়ের। জেরেমি করবিন লেবার পার্টিকে বামপন্থি ও মধ্যপন্থিদের মধ্যে ভাগ করেছিলেন। স্যার কিয়ের পার্টিকে একত্রিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে করবিনের চিন্তাধারাকে একেবারে বাতিল করতে চাননি। মধ্যপন্থায় যাতে দল সরে না যায় সেদিকেই মনোযোগটা বেশি দিয়েছিলেন। আর যোগ্য নেতৃত্বেই লেবার পার্টি আবার ফ্রন্ট সিটে।
সূত্র : বিবিসি