আমেরিকার ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচন
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৪ ১২:১১ পিএম
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৪ ১৬:৪৮ পিএম
শনিবার (২৯ জুন) নিউইয়র্কের উডসাইডের গুলশান টেরেসে পিপল ইউনাইটেড ফর প্রোগ্রেসের আয়োজিত সাংগঠনিক নৈশভোজে বক্তব্য রাখছেন স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে নিউইয়র্কের কুইন্স কাউন্টি কমিটির মেম্বার পদের জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ।
গত ২৫ জুন এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ জুন) নিউইয়র্কের উডসাইডের গুলশান টেরেসে আবু জাফর মাহমুদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক সংগঠন পিপল ইউনাইটেড ফর প্রোগ্রেস একটি সাংগঠনিক নৈশভোজের আয়োজন করে। সেখানে নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন। তিনিও এবার ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
পিপল ইউনাইটেড ফর প্রোগ্রেসের প্রেসিডেন্ট আবু জাফর মাহমুদ সূচনা বক্তব্যে আয়োজনটিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সীমানা অতিক্রমের একটি আনুষ্ঠানিক অধ্যায় হিসাবে উল্লেখ করেন। আর বলেন, ‘যারা এতদিন বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অবদান রেখেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা এখন দৃপ্তস্বরে, স্বগৌরবে বলতে পারবেন ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে আমরাও মূলধারার নেতৃত্বের অংশীদার। যে কোনো যুদ্ধে আপনজন পাশে না থাকলে মনোবল থাকে না। মনোবল না থাকলে যোদ্ধার বিজয় হয় না। আর মনোবল হচ্ছে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। আমার সেই শক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি ও সংগঠনের সকল কর্মীরা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আমার এ জয়লাভ একটা ইতিহাস ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা। কমিউনিটির সকলেই এর কৃতিত্বের দাবিদার।’
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নিবন্ধনভুক্ত ও নিবন্ধন বহির্ভূত সকল নাগরিকের পক্ষে পিপল আপ এর ১৪ দফা আলোচ্যসূচী তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় নেতৃত্ব দেয় এমন শীর্ষ দল ও ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে এ আলোচ্যসূচী বাস্তবায়নের চেষ্টা চালানো হবে।’
স্টিভেন রাগা আবু জাফরের ১৪ দফা প্রস্তাবনাকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেছেন ও তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
স্টিভেন রাগা জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে পিছিয়ে পড়া, স্বল্প আয়ের মানুষদের জীবন-জীবিকার অধিকার নিশ্চিত করতে ডেমোক্রেটিক পার্টি সোচ্চার। প্রথম বছরে জয়ী হয়ে তিনি এরই মধ্যে ৩০ মিলিয়ন ডলার দক্ষিণ এশীয় নাগরিকদের শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ রেখেছিলেন। এ বরাদ্দ সামনে আরো বাড়ানো হবে, নতুন বিনিয়োগ যুক্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সকল সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর নূন্যতম মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে একযোগে কাজ করা হবে। এজন্য আসছে নভেম্বরের নিবার্চনে তাদের জয়ী হওয়া জরুরী। আর এর জন্য বাংলাদেশী কমিউনিটির সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী নভেম্বরে এর প্রতিফলন ভোটে থাকতে হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনের জন্য এমন অনেক পদ রয়েছে যেখানে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আবু জাফর মাহমুদের সাংগঠনিক দক্ষতা অনন্য। নিবার্চনে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সকল কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ, অবদান থাকা প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মূলধারার ট্রেড ইউনিয়ন নেতা মিলন রহমান।
২৯ জুনের অনুষ্ঠানে পিপল আপের সাংগঠনিক নৈশভোজে কুইন্স কাউন্টির ইন্টার গভর্মেন্টাল অ্যাফেয়ার্সের ডেপুটি চিফ হারিস কে প্যারেখ, গণতান্ত্রিক সমাজবাদী ইউনিয়ন নেতা ক্লেয়ার ভ্যালডেজ উপিস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, সম্পাদক ও সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।