পদপিষ্টে শতাধিক মৃত্যু
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৪ ২২:২৬ পিএম
ভোলে বাবার প্রকৃত নাম নারায়ণ শঙ্কর হরি
ভারতের উত্তর প্রদেশের হাতরাসে ভোলে বাবা নামের এক ধর্মগুরুর ধর্মীয় অনুষ্ঠানে
পদদলিত হয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০৭ জন নিহত হয়েছে। তবে এখন
পর্যন্ত মৃতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে,
এখন পর্যন্ত ১০৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংখ্যা বাড়তে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই আলোচনায় রয়েছে ধর্মীয় গুরু ভোলে বাবাকে নিয়ে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোলে বাবা
নামে এক ধর্মীয় প্রচারক হাতরাস জেলার সিকান্দ্রারাউ এলাকার
রতিভানপুর গ্রামে ‘সৎসঙ্গ’ নামে একটি প্রার্থনাসভার আয়োজন করেন। ভোলে বাবার প্রকৃত নাম নারায়ণ শঙ্কর হরি। উত্তর প্রদেশ পুলিশে তিনি
দীর্ঘ ১৮ বছর কর্মরত ছিলেন। কাজ করেন পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তরের
হয়েও। পরবর্তীতে এ চাকরি ছেড়ে ধর্মীয় গুরু বনে
যান। শুরু করেন ভক্তদের প্রবচন দেওয়ার কাজ। মঙ্গলবারও
অনুসারীদের সৎ পরামর্শ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। ওইদিন প্রচণ্ড গরম পড়েছিল।
ধর্মীয় প্রচারকের জন্য বিশেষভাবে একটি তাঁবু নির্মাণ করা হয়। তাঁবুতে বসেই ধর্মগুরু
তার অনুসারীদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন।
দেশটির পুলিশ বলছে, অনুষ্ঠানস্থলে অনেক মানুষ
থাকায় প্রচণ্ড গরমে একপর্যায়ে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর অনেক মানুষ
একসঙ্গে সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এ সময় পদদলিত
হয়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর
ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
ভারতের আলিগড় রেঞ্জের ইন্সপেক্টর জেনারেল শলভ মাথুর বলেন, ‘আজকে ভোলে বাবা নামে এক ধর্মপ্রচারকের সৎসঙ্গ সভা ছিল।
বিকালের দিকে এটাহ ও হাতরাস জেলার সীমান্তে জমায়েত হওয়ার
জন্য সাময়িক অনুমতিও দেওয়া হয়।’ তবে জমায়েত ব্যবস্থাপনা
ও নিয়ন্ত্রণের সুব্যবস্থা না থাকায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি হতে পারে বলে মন্তব্য
করেন তিনি। শলভ মাথুর আরও জানান, ‘প্রচণ্ড গরমে ভিড় থেকে অনেক মানুষ বের হয়ে যেতে চাচ্ছিল। অন্যদিকে
প্রচুর মানুষ জড়ো হওয়ায় বের হওয়ার জায়গা ছিল না। বের হওয়ার সময় বাধা পাওয়ায় অনেকে আতঙ্কিত
হয়ে পড়ে। অনেকে বাঁচার জন্য এখানে-সেখানে ছোটাছুটি শুরু করে। এ রকম অবস্থায়
পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে।’
পদপিষ্টে আহত অনেককেই হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। এক আহত ব্যক্তি এনডিটিভিকে
জানান, ‘ভক্তদের প্রচুর ভিড় ছিল। সবাই একে অপরের ওপর পড়তে থাকে। আমি বাইরে যাওয়ার
চেষ্টা করছিলাম। পারছিলাম না।
অনেকে অজ্ঞান হয়েও মারা গেছে।’
চিফ মেডিকেল অফিসার রাজকুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এনডিটিভি জানায়, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘটনার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং পরিস্থিতি নজরে রাখছেন। ঘটনা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু পদদলিত হয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সূত্র : ইনডিয়ান এক্সপ্রেস