যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে জয় পেয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি।
সিবিএস নিউজের বরাতে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮টি আসন নিশ্চিত করেছেন রিপাবলিকানরা।
তবে প্রতিনিধি পরিষদে সামান্য ব্যবধানে জিতেছে তারা। এ সংখ্যাগরিষ্ঠতাই তারা আগামী দুই বছর প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এজেন্ডার বাস্তবায়ন ঠেকানোর জন্য ব্যবহার করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ থাকছে ডেমোক্র্যাটদের হাতেই।
রিপাবলিকানরা ধারণা করেছিলেন, এই মধবর্তী নির্বাচনে দুটি কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ যাবে তাদের পক্ষে। কিন্তু ফলাফলে তাদের সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ আগেই ডেমোক্র্যাটদের ঝুলিতে চলে যায়। তবে বুধবার ক্যালিফোর্নিয়া আসন জিতে অবশেষে নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হন রিপাবলিকানরা।
কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। এর মধ্যে ২১৮টি আসন নিশ্চিত করেছে রিপাবলিকানরা এবং ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হয়েছেন ২০৯টি আসনে।
তবে সিবিএস বলছে, রিপাবলিকান পার্টি ২১৮ থেকে ২২৩টি আসনে জয়লাভ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের ১০০ আসনের ৩৫টিতে, নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের সবকটিতে এবং অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও সিনেটে ভোটাভুটি হয়েছে।
সর্বশেষ ফলাফলে নিম্নকক্ষে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ২১৮টি আসন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এখন রিপাবলিকানদের হাতে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় আগামী দুই বছর নিজের চাহিদা মতো আইন প্রণয়ন বা অন্যান্য কার্যক্রম চালাতে পারবেন না প্রেসিডেন্ট বাইডেন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিভিন্ন তদন্তও চালাতে পারেন রিপাবলিকানের সদস্যরা।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ওপর সাধারণ মানুষের ব্যাপক আস্থা না রাখার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বাইডেনের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে অসন্তুষ্টি। এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে মূদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। সাধারণ মানুষের ব্যয় বেড়েছে অনেকাংশে।
অন্যদিকে রিপাবলিকানদের ওপরও সাধারণ ভোটাররা খুব বেশি আস্থা রাখেননি। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ক্যাপিটল হিলে রিপাবলিকান সমর্থকরা যে তাণ্ডব চালিয়েছিলেন, সেটি অনেক ভোটার মনে রেখেছেন।
এবারের নির্বাচনের আগে আলোচনায় ছিল অর্থনৈতিক মন্দা, বন্দুক সহিংসতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং অভিবাসী সংকটের মতো ইস্যুগুলো। প্রচারেও এসব ইস্যু নিয়ে পরস্পরকে ঘায়েলের চেষ্টা চলে।