প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৪ ১৭:২৬ পিএম
আপডেট : ২৭ জুন ২০২৪ ১৭:৫৭ পিএম
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। ছবি : সংগৃহীত
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, সাম্প্রতিক ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলই প্রমাণ করে যে, ভারত ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ নয় ।
বুধবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কলকাতায় ফেরেন তিনি। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রেখে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। নতুন শাসনব্যবস্থার মধ্যেও মানুষকে ‘বিনা বিচারে’ কারাগারে রাখার যে ‘ধারাবাহিকতা’ চলছে তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
৯০ বছর বয়সি এই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ বলেছেন, ‘ভারত যে হিন্দু রাষ্ট্র নয়, তা নির্বাচনের ফলাফলেই প্রতিফলিত হয়েছে। আমরা প্রতিটি নির্বাচনের পর কিছু পরিবর্তন আশা করি। এর আগে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে বিনা বিচারে মানুষকে কারাগারে রাখা ও ধনী-দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান বাড়ানোর মতো কিছু বিষয় এখনেও অব্যাহত রয়েছে। এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার চিন্তা যথাযথ বলে আমি মনে করি না। মন্ত্রীরা পূর্বের ন্যায় একই ধরনের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সামান্য রদবদল হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাবানরা এখনও শক্তিশালী। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। তাই এখানে রাজনৈতিকভাবে খোলা মনের হওয়া দরকার।’
ব্রিটিশ শাসনামলে বিনা বিচারে মানুষকে কারাগারে আটকে রাখা হতো। শৈশবের সেসময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার অনেক চাচা ও চাচাতো ভাইকে বিনা বিচারে কারাগারে রাখা হয়েছিল। আমরা আশা করেছিলাম ভারত এ থেকে মুক্তি পাবে। এটা এখনও বন্ধ না হওয়ার পেছনে কংগ্রেসও দায়ী। তারা এটা বন্ধ করেনি। এ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনেনি। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে বিনা বিচারে কারাগারে পাঠানোর মতো ঘটনা বেশি ঘটছে।’
অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরি করেও বিজেপির ফৈজাবাদ লোকসভা আসন হারানো প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেন বলেন, ‘প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাম মন্দির তৈরি করে এটা দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে ভারত একটি হিন্দু রাষ্ট্র। এটা মহাত্মা গন্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর দেশ। এখানে এমনটা হওয়া উচিত ছিল না। ভারতের আসল পরিচয়কে উপেক্ষা করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এটা অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, ভারতে বেকারত্ব বেড়েই চলেছে। প্রাথমিক শিক্ষা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতগুলোকে এখানে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
সূত্র : এনডিটিভি