প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৪ ২২:২৬ পিএম
মাত্র ছয়জনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য অনুমোদন করেছে গার্ডিয়ান কাউন্সিল
ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর পর দেশটির
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ দাঁড়িয়েছে দ্রুত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করা। এর
পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জুন দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে চলেছে। নির্বাচনে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনির অনুগত প্রার্থীদের
আধিপত্য লক্ষ করা যাচ্ছে। কারণ দেশটির গার্ডিয়ান কাউন্সিল এ বিষয়ে খুব কঠোর নীতিতে
অবস্থান করছে।
এবারের নির্বাচনে প্রার্থিতা পেতে মোট ৮০ জন নিবন্ধন ফরম
পূরণ করেছিলেন, যার মধ্য থেকে মাত্র ছয়জনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য অনুমোদন
করেছে গার্ডিয়ান কাউন্সিল। বলা হচ্ছে, গার্ডিয়ান কাউন্সিল খোমেনির অনুগত
প্রার্থীদের অনুমোদন করেছে। দেশটির সাবেক দুবারের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাহমুদ
আহমেদিনেজাদ এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতার অনুমোদন পাননি।
ইরানে এভাবে প্রার্থিতা অনুমোদন নিয়ে বেশ উদ্বেগ রয়েছে রাজনৈতিক
বিশ্লেষকদের। বিশেষ করে, দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদকে বাদ
দেওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত করেছে গার্ডিয়ান কাউন্সিলকে। তার আট বছরের
প্রেসিডেন্ট পদে থাকার অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও আহমেদিনেজাদকে অনুমোদন করা হয়নি। একসময়
আহমেদিনেজাদ খোমেনির খুব ঘনিষ্ঠ থাকলেও তার দ্বিতীয় মেয়াদের শেষের দিকে তিনি
সর্বোচ্চ নেতার আস্থা হারান। কথিত আছে, আহমেদিনেজাদের সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ
ধর্মীয় নেতার রাজনৈতিক বৈরিতা থাকায় তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বয়স এখন ৮৫ বছর। এবারের নির্বাচিত
প্রেসিডেন্টই দেশটির পরবর্তী খোমেনির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এজন্যই গার্ডিয়ান কাউন্সিল প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে
এমন রক্ষণশীল ছিল। এবার ইরানের নির্বাচন অবাধ বা প্রতিযোগিতামূলক
হবে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ হিসেবে তারা বলেছেন,
প্রার্থীর অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত প্রভাব
রয়েছে। এবার প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে নিবন্ধিত ৮০ জনের মধ্যে ছয়জনের
প্রার্থিতা অনুমোদন করেছে গার্ডিয়ান কাউন্সিল। তারা হলেনÑ ইরানের
সংসদের স্পিকার ৬২ বছর বয়সি মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ, আমিরহোসেন গাজিজাদে
হাসেমি, সাঈদ জালিলি,
মাসউদ পেজেশকিয়ন, মোস্তফা পুরমোহাম্মদি, আলিরেজা
জাকানি।
২০১৮ সালেও আহমেদিনেজাদকে অনুমতি দেয়নি ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল। বারবার তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়াটা ইরানের রক্ষণশীলতার দিকটি বেশভাবে ফুটিয়ে তোলে। এ ছাড়া আহমেদিনেজাদকে বারবার বাদ দেওয়ার অর্থই হচ্ছে ইরানে খোমেনির অপ্রিয় ব্যক্তিরা প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে ব্যর্থ হবেন।
সূত্র: বিবিসি