সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদন
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৪ ১৮:৩২ পিএম
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৪ ১৯:০০ পিএম
হামাসকে পুনর্গঠিত হতে না দেওয়ার জন্য গাজায় প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। গত আট মাসে বিভিন্ন অভিযানে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত আট মাসে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে অনেক শিশু মারা গেছে যাদের লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। আদৌ সব শিশু নিহত হয়েছে কি না তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় শিশুরা নিখোঁজ হয়েছে, সেনাদের দ্বারা নির্যাতিত-অপহৃত হয়েছে কিংবা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছে।
সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, অন্তত ১৭ হাজার শিশু তাদের পরিবারের সঙ্গে নেই। পরিবারের সদস্যরা তাদের সন্তানদের খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের জরিপে এও বলা হয়, অন্তত ৪ হাজার শিশুর মরদেহ বিভিন্ন ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনও তা উদ্ধার করতে পারেনি। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, গাজা উপত্যকায় গণকবরের মতো কিছু জায়গা শনাক্ত করা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অনেক শিশুকে নির্যাতনের পর জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছে।
শিশু অধিকারকর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিশেষত রাফার ৬০ শতাংশ অঞ্চলই এখন ইসরায়েলি সেনাদের দখলে। তাদের বিক্ষিপ্ত অভিযানে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালাচ্ছেন। এ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে অনেক শিশু। সেভ দ্য চিলড্রেনের এক বিশেষজ্ঞ কর্মী জানিয়েছেন, ‘প্রতিদিনই আমরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের উদ্ধার করছি। তাদের পর্যাপ্ত সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে আমাদের পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আমরা মূলত শিশুদের কাছ থেকেই জবানবন্দি নেওয়ার চেষ্টা করি। কিংবা তাদের সঙ্গে কোনো সঙ্গী থাকলে তাদের মাধ্যমে পরিবারের কাউকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শিশুরা কোনোভাবেই এখানে নিরাপদ নয়। গাজায় তাদের জন্য নিরাপদ কোনো জায়গা নেই’। তিনি আরও জানান, ‘বেশকিছু প্রতিবেশী অবশ্য অনেক শিশুর দায়ভার নেন। কিন্তু অধিকাংশ পরিবার নিজেদেরই দৈনিক চাহিদা মেটাতে পারছে না। তবুও মানবিক তাগিদে তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশুদের সঙ্গে রাখেন। যদি কোনোভাবে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া যায় তাহলেই তারা খুশি হন’।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত রবিবার (২৩ জুন) পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৯৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। নিহতের মধ্যে ১৪ হাজারই শিশু।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ এবং মানবাধিকার সংগঠনরা প্রতিনিয়ত ইসরায়েলকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের
অভিযোগ জানাচ্ছে। তাদের মতে, ফিলিস্তিনে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির মাধ্যমে তারা এ যুদ্ধকে
পরিচালিত করছে। ক্ষুধা তাদের একটি প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছে। অপুষ্টিতে ভুগে অনেক শিশু
মারা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত বারোজনের বেশি শিশু ক্ষুধায় মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক গত শনিবার (২২ জুন) মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া
এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এক সপ্তাহে অন্তত চারজন শিশু অপুষ্টিতে মারা গেছে। মাত্র কয়েক
ঘণ্টার ব্যবধানে নার্সারি বিভাগে এক শিশু অপুষ্টিতে ভুগে মারা গেছে’।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত শুক্রবার এও জানিয়েছে, তীব্র গরমে গাজায় মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। সংস্থাটি বরাবরই রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। রাফাহ সীমান্ত খুলে দিলে অন্তত ১০ হাজার আহতদের চিকিৎসার জন্য পাঠানো যাবে এবং গাজায় চিকিৎসা রসদ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই