প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৪ ১৩:৫৯ পিএম
আপডেট : ২২ জুন ২০২৪ ১৪:৫৭ পিএম
অজয় হিন্দুজা (বাঁ দিকে) ও তার স্ত্রী নম্রতা, তাদের আইনজীবী রবার্ট অ্যাসেলের সঙ্গে। ২০২৪ সালের জুনের শুরুর দিকে জেনেভার আদালতের বাইরে থেকে তোলা। ছবি : সংগৃহীত
ব্রিটেনের ধনকুবের হিন্দুজা পরিবারের চার সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের একটি আদালত। জেনেভায় তাদের নিজেদের প্রাসাদে ভারতীয় গৃহকর্মীদের শোষণের দায়ে শুক্রবার (২১ জুন) তাদের এ কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালতে রায় ঘোষণার সময় হিন্দুজা পরিবারের কোনো সদস্যই উপস্থিত ছিলেন না। আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগে মামলা চলছিল। যার মধ্যে মানব পাচারের অভিযোগ থেকে তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ হিন্দুজা ও তার স্ত্রী কমল হিন্দুজাকে সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর তাদের ছেলে অজয় হিন্দুজা ও তার স্ত্রী নম্রতা হিন্দুজাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
হিন্দুজা পরিবারের বিরুদ্ধে করা মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা তাদের জন্মভূমি ভারত থেকে গৃহকর্মী নিয়ে আসত। গৃহকর্মীদের আনার পর তাদের পাস্টপোর্ট জব্দ করত।
হিন্দুজাদের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার যথাযথ স্বাধীনতা না দেওয়ার ও কম বেতন দেওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রসিকিউটররা।
হিন্দুজারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
হিন্দুজারা আদালতের বাইরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী তিন কর্মচারীর সঙ্গে গোপনে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল। কিন্তু অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রসিকিউশন মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
জেনেভার প্রসিকিউটর ইয়েভেস বার্তোসা আদালতের কাছে প্রকাশ হিন্দুজা ও তার স্ত্রী কমল হিন্দুজাকে সাড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন করেন। আদালতে বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে তারা দুইজনই স্বাস্থ্যগত কারণে আদালতে উপস্থিত হননি।
বার্তোসা তার সমাপনী বক্তব্যে অভিযোগ করেন, অর্থ বাঁচানোর জন্য শক্তিশালী নিয়োগকর্তা ও দুর্বল কর্মচারির মধ্যে বিরাজমান অসম পরিস্থিতির অপব্যবহার করেছে হিন্দুজা পরিবার।ভুক্তভোগী গৃহকর্মীদের ২২০ ডলার থেকে ৪০০ ডলার পর্যন্ত বেতন দেওয়া হতো। যা সুইজারল্যান্ডে তাদের প্রত্যাশিত আয়ের চেয়ে কম। সুইজারল্যান্ডের অন্য কোথাও তারা এর চেয়ে বেশি উপার্জন করতে পারত।
হিন্দুজা পরিবারের পক্ষের আইনজীবীরা এর জবাবে বলেন, অভিযোগকারী তিনজন কর্মচারীই যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। তাদের আলাদা করে রাখা হয়নি। তারা প্রাসাদের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও মুক্ত ছিলেন।
হিন্দুজাদের পক্ষের আরেক আইনজীবী রবার্ট অ্যাসেল বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে উন্নত জীবন দেওয়ার জন্য কর্মচারীরা হিন্দুজাদের কাছে কৃতজ্ঞ ছিলেন। কোনো কর্মচারীকে তার বেতনের বিষয়ে প্রতারিত করা হয়নি।’
বিশ্বের ৩৮ টি দেশে হিন্দুজা গ্রুপের তেল,গ্যাস, ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবসা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে তাদের প্রায় ২ লাখ কর্মী রয়েছে।