প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৪ ২২:১১ পিএম
আপডেট : ১৫ জুন ২০২৪ ২২:২০ পিএম
গাজায় অন্তত ২ লাখ শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে
জি-৭ সম্মেলনে বাইডেন জানিয়েছেন, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ বন্ধের পরিপূর্ণ সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তবে তিনি এ বিষয়ে হাল ছাড়বেন না বলেও জানিয়েছেন। কিন্তু তার প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। গাজায় এখনও মানুষ হামলার শিকার।
গাজার দক্ষিণে রাফাহ শহরে ১৫ জুন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী সমুদ্র,
আকাশ ও স্থলপথে বিচ্ছিন্ন হামলা চালিয়েছে। সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে সক্রিয় দুটো যুদ্ধজাহাজ
ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে হামলা করছে। এখন পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।
রাফাহ শহরে কার্যত আর কোনো হাসপাতাল চালু নেই। রাফার মধ্যভাগে অবস্থিত
তাল এস সুলতানে অধিকাংশ হামলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। তাল এস সুলতান এলাকায়
স্বাস্থ্যকর্মী কিংবা প্যারামেডিকদের কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে একাধিক
প্রতিবেদন। আহতদের অনেকেই খান ইউনিসে অবস্থিত ইউরোপিয়ান হাসপাতালে চিকিৎসার প্রত্যাশায়
ছুটছেন।
ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ওয়াফার এক প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে, শনিবার
রাফার ধ্বংসস্তূপ থেকে নয়জন ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য
সংস্থা (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, প্রায় ১ লাখ ফিলিস্তিনি আটক রয়েছেন। গাজার আল বুরেজি
ক্যাম্পে শনিবার পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ২৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা গেছে।
জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দল জানিয়েছে, নির্বিচারে বোমাবর্ষণের পাশাপাশি
গাজার স্বাস্থ্য অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েচে। মার্চ মাস থেকেই গাজায় খাদ্যসংকট
বেড়েছে। ইতোমধ্যে ১২-এর বেশি শিশু ক্ষুধায় মারা গেছে। অনেকে খাবারের অভাবে ঘাস খাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক চাপে ইসরায়েল জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তার জন্য সামান্য পথ
উন্মুক্ত করে দিয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘ জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর নাগাদ গাজায় দুর্ভিক্ষ দেখা
দিবে। এখনও সেখানে দুর্ভিক্ষই রয়ে গেছে। ফিলিস্তিনিরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞার
কারণে খাবার বা ত্রাণ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। গণমাধ্যমও এ বিষয়ে তেমন আগ্রহী নয়। সালেম
নামে এক ফিলিস্তিনি মিডল ইস্ট আইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার
বাচ্চার জন্য খুব কষ্ট হয়। খেতে না পেয়ে বাচ্চাটা শুকিয়ে গেছে’।
রিমাল এলাকায় ফেটা পনির আর হালুইয়া বাদে কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ নারী তাদের
সন্তানদের এই দুটো খাবার স্বল্প পরিমাণে দিতে পারছেন। কিন্তু এ দুটো খাদ্য পর্যাপ্ত
পুষ্টি দিতে পারছে না। সালেমের বক্তব্য মূলত গাজার উত্তরাংশের সামগ্রিক বাস্তবতার খণ্ডিত
চিত্র মাত্র।
ইসরায়েলি অভিযানে মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। ফিলিস্তিনের কামাল আদওয়ান
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হোসাম আবু সুফিয়ান জানান, গাজায় অন্তত ২ লাখ শিশু পুষ্টিহীনতায়
ভুগছে। আল আরাবি টিভিতে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে জানান, গাজায় দুর্ভিক্ষ চরম
আকার ধারণ করবে। এটি একটি বড় মানবিক সংকট।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় এখন মাত্র ৩০টি ট্রাক খাবার সরবরাহ করতে
পারে। অধিকাংশ ট্রাকই পর্যাপ্ত ময়দা নিয়ে যেতে পারে না। গাজায় প্রতিদিন অন্তত ৫০০ ট্রাক
খাদ্যরসদ প্রয়োজন। এছাড়া বাণিজ্যিক নিত্যপণ্যও দরকার। মিসরে রাফা ক্রসিং মে মাসে বন্ধ
হওয়ার পর খাদ্য সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে গাজায়। জাবালিয়া রিফিউজি ক্যাম্পসহ বেশ
কয়েকটি ত্রান সরবরাহ কেন্দ্র ধ্বংস করে দেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ফলে গাজায় খাদ্যসংকটের
পাশাপাশি প্রতিনিয়ত মৃত্যুর শঙ্কায় বাঁচছেন প্রতি ফিলিস্তিনি।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই