ফিলিস্তিনে গণহত্যা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৪ ১৪:৫৫ পিএম
গত বছর অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে ১৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস ছবি: এএফপি
বাইডেনের প্রস্তাবিত
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধের বিষয়ে হামাস সম্প্রতি তাদের পূর্ণাঙ্গ দাবি পেশ করেছে।
হামাস জানিয়েছে, গাজায় ১৭ বছর ধরে ইসরায়েল যে ব্লকেড রেখেছে, তা তুলে নিতে হবে। প্রস্তাবনা
বাস্তবায়নের প্রথম পর্যায়ে গাজা থেকে অবিলম্বে সব সেনা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। হামাসের
হয়ে মিসর এবং কাতারের কূটনীতিকরা মধ্যস্থতা করছেন। তাদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে
হামাস তিন ধাপে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে।
হামাসের প্রস্তাবনায়
বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ৪১ দিনের প্রথম ২২ দিন সেনা প্রত্যাহার এবং বাস্তুচ্যুতদের
পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে বন্দিবিনিময়ের বিষয়েও
তারা কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে। ইসরায়েল প্রশাসন ফিলিস্তিন প্রশাসনকে বিমানবন্দর কিংবা
গাজার সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা প্রত্যাহারের দাবিও করা হয়েছে।
মূলত প্রথম ধাপে বন্দিবিনিময়ের ভিত্তিতেই দ্বিতীয় ধাপের ধারাবাহিকতা নির্ধারিত হবে।
হামাস জানিয়েছে, বন্দিবিনিময়ের সময় জাতিসংঘ ও অন্য মানবাধিকার সংগঠনকে গাজায় পুনর্বাসন
এবং অবকাঠামো সংস্কারে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। সংগঠনটির দাবি, গত বছর অক্টোবর থেকে
এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে ১৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো ক্ষতি হয়েছে।
বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল ফিলিস্তিনের জন্য এটি বড় সংকট। এই সংকট সমাধানের জন্য
বিশ্বসম্প্রদায়কে অংশগ্রহণের দাবি জানিয়েছে তারা। রাফার পাশাপাশি তারা ফিলাডেলফি করিডোর
খুলে দেওয়ার দাবিও করেছে।
হামাস তাদের দাবিতে
উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি রাশিয়া, চীন ও তুরস্ককে এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের
‘গ্যারান্টর’ হতে হবে। তবে প্রস্তাবনার খসড়ায় যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, কাতার গ্যারান্টরের
ভূমিকা পালন করবে বলা হয়েছে। ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় পর্যায়
বা ধাপটির স্থায়িত্ব হবে ছয় সপ্তাহের। এতে যদি সমঝোতা না হয়, তবে তা সম্প্রসারিত করা
হবে। কিন্তু হামাস মনে করছে, এই প্রস্তাবে ইসরায়েলকে যুদ্ধ আবার শুরুর অধিকার দেওয়া
হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা বলছেন, হামাস আরও কয়েকটি সংশোধনী দাবি করছে। তবে সেগুলো খুবই
ছোটখাটো। সেগুলো সমাধান করতে সমস্যা হবে না। কিন্তু স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এখন
খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
হামাসের এক জ্যেষ্ঠ
নেতা বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে অন্তত ১০০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তির দাবি করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, হামাসের কিছু দাবি বাস্তবায়ন একেবারেই সম্ভব না।
এতে হামাস বারবার প্রস্তাবনায় সংশোধনীর দাবি জানিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবনার দ্বিতীয় ধাপে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও ইসরায়েল তা মেনে নিচ্ছে না। দ্বিতীয় ধাপে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলে হামাস আগামী ৩-৫ বছরে ফিলিস্তিনের অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা ও নিষেধাজ্ঞা সরানোর কথা বলেছে। হামাস এই যুদ্ধ বন্ধের দাবি করলেও ইসরায়েলের নেতারা তা মানছেন না। তারা হামাসকে পুরোপুরি ধ্বংস করার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ থামাবেন না বলে জানিয়েছেন।
সূত্র : আলজাজিরা