প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৪ ১৭:৪০ পিএম
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪ ১৮:০৩ পিএম
কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করছেন হাজিরা।সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ থেকে তোলা। ছবি : সংগৃহীত
এ বছর পবিত্র হজপালনের জন্য সৌদি আরবের মক্কায় জড়ো হয়েছেন ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন মুসলিম। কিন্তু তাদের মধ্যে নেই গাজার ফিলিস্তিনিরা।
গত মে মাস থেকে ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী মিসরের সীমান্তবর্তী অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দক্ষীণাঞ্চলীয় শহর রাফায় স্থল অভিযান জোরদার করে। তখন তারা রাফা ক্রসিং বন্ধ করে দেয়। যার ফলে গাজার ফিলিস্তিনিরা হজপালনের জন্য মক্কার উদ্দেশে রওনা করতে পারেননি। সৌদিতে গিয়ে পৌঁছাতে পারেননি। তাই তারা এ বছর হজপালন করতে পারছেন না।
শুক্রবার (১৪ জুন) কাবা শরিফ প্রদক্ষিণের মধ্য দিয়ে সৌদিতে এ বছরের পবিত্র হজপালন শুরু হয়েছে। অনেক মুসলিম হজযাত্রী গাজায় চলমান প্রায় আট মাসের যুদ্ধে আক্রান্ত ফিলিস্তিনিদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মরক্কো থেকে হজপালন করতে আসা ৭৫ বছর বয়সি জাহর বেনিজাহরা বলেন, ‘আমাদের ভাইয়েরা মারা যাচ্ছে। আর আমরা তা নিজের চোখে দেখতে পারছি।’
৭৫ বছর বয়সি আমনা মুতলাক নামক এক ফিলিস্তিনি আলজাজিরাকে বলেছেন, ‘রাফা ক্রসিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে আমরা হজপালন করা থেকে বঞ্চিত হলাম। আমরা গাজা থেকে বের হতে পারছি না। আর যখনই আমরা বের হওয়ার চেষ্টা করি, তারা আমাদের বলে ক্রসিংটি বন্ধ ও আমরা সেখান থেকে বের হতে পারব না। তারা আমাদের সবকিছু থেকে বঞ্চিত করেছে।’
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ৪ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি হজপালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় গিয়ে পৌঁছেছেন।
রাফা ক্রসিং বন্ধ হওয়ার আগেই যুদ্ধে আহত ও নিহত ফিলিস্তিনি পরিবার থেকে আরও প্রায় এক হাজার হজযাত্রী গাজার বাইরে ছিলেন। সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান তাদের হজপালনের জন্য মক্কায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত আরেক মুসলিম দেশ সিরিয়া। গত এক দশকের বেশি সময় পর এবারই সিরিয়ার হজযাত্রীরা দামেস্ক থেকে সরাসরি ফ্লাইটে মক্কায় এসেছেন। আগে সিরিয়ার হজযাত্রীদের তুরস্ক হয়ে হজপালনের জন্য আসা-যাওয়া করতে হতো।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়। আহত হয় ৪ হাজারের মতো। হামাস জিম্মি করে ২৪০ থেকে ২৫৩ জনকে। ইসরায়েল ধারণা করছে, এখনও প্রায় ১৩০ জন হামাসের কাছে জিম্মি আছে।
হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েল গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গাজায় এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ২৩২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৮৫ হাজার ৩৭ জন।
সূত্র : আলজাজিরা