প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২২ ২০:৫৯ পিএম
আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২২ ২১:১৩ পিএম
ইন্দোনেশিয়ার বালিতে মঙ্গলবার জি-২০ এর শীর্ষ সম্মেলনে জোটটির নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার বালিতে চলছে দুই দিনব্যাপী জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে। সম্মেলনের প্রথম দিন মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) প্রায় সব নেতাই রাশিয়ার ইউক্রেন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কূটনীতির মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বানও এসেছে। কিন্তু সম্মেলন চলাকালেই কিয়েভসহ ইউক্রেনের নানা শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
রয়টার্স ও বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেন, ‘রাশিয়া বিশ্ব ব্যবস্থা তছনছ করে দিচ্ছে। কাউকে পরোয়া করছে না। তাকে এখনই থামাতে হবে।’
প্রায় একই ধরনের কথা বলেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখো। শলৎস বলেন, ‘রাশিয়া ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। নিজের ফাঁদে সে নিজেই আটকে যাবে।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘যুদ্ধ আমাদের পেছনের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। করোনা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা সংকটে বিশ্ব জর্জরিত। এটা যুদ্ধের সময় নয়। কূটনীতির মাধ্যমে শিগগির এ যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে।’
সম্মেলনের আয়োজক দেশ ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো অবশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টি সরাসরি তেমন একটা উল্লেখ করেননি। উইডোডো বিশ্ব শক্তিগুলোর ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন।
সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্টের পরিবর্তে প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। বক্তৃতায় ল্যাভরভ বলেন, ‘হ্যাঁ, ইউক্রেনে একটি যুদ্ধ চলছে। এটি পশ্চিমাদের হাইব্রিড যুদ্ধ। এটা তাদের কয়েক বছরের প্রস্তুতির ফল।’
বিশ্বের শীর্ষ ১৯ অর্থনীতির দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জোট জি-২০ মূলত অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট বিষয়, উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু এবার জোটটির সম্মেলন অনেক বেশি রাজনৈতিক হয়ে পড়েছে। সদস্য না হয়েও মঙ্গলবার জোটটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে কথা বলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়াকে থামানোর এটাই উপযুক্ত সময়। যুদ্ধ বন্ধের জন্য আমি ১০ দফা দিয়েছে। এর আলোকেই এ যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।’ অন্য দিকে জি২০ না বলে ভাষণে জেলেনস্কি জি১৯ বলেছেন। অর্থাৎ তিনি রাশিয়াকে বাদ দিয়ে জোটটিকে সম্বোধন করেছেন।
জি-২০ সম্মেলনে জেলেনস্কির ভাষণের কয়েক ঘণ্টার মাথায় রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভে অন্তত ৩টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভের পাশাপাশি ইউক্রেনের অন্য বড় শহর চেরনিহিভ, জাপেরিঝঝিয়া এবং মাইকোলাইভেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
ল্যাভরভের নেতৃত্বে রুশ প্রতিনিধি দল একটি উড়োজাহাজে করে বালি ত্যাগের পরপরই এ হামলা হয়েছে।