ফিলিস্তিনে গণহত্যা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৪ ২২:২৩ পিএম
গাজায় যুদ্ধবিরতি-বিষয়ক আলোচনা চলাকালে মধ্য গাজায় ১৩ জুন ফের ইসরায়েলি হামলার অভিযোগ
সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলি বন্দি অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর ১৩
জুন গাজার ‘সেফ জোন’ বলে অভিহিত আল মাওয়াসি অঞ্চলে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে আবার হামলা
চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ফিলিস্তিনের ওয়াফা নিউজ এজেন্সি হামলার তথ্য উল্লেখ করে জানিয়েছে,
যেসব এলাকায় ফিলিস্তিনিরা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে জড়ো হচ্ছে সেখানেই হামলা করছে ইসরায়েলি
সেনারা। গাজায় যুদ্ধবিরতি-বিষয়ক আলোচনা যখন চলমান তখন এই হামলায় নতুন করে সংকট দেখা
দিয়েছে। প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে, রাফাহ শহরের পশ্চিমে এক হামলায় নুসেইরাত ক্যাম্পের
৫ জন নিহত হয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জো বাইডেনের প্রস্তাবিত গাজা-ইসরায়েল
সংঘাত বন্ধের প্রস্তাবনা পাসের পর হামাস যুক্তরাষ্ট্রকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে।
কিন্তু ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এই হামলার পর স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়টি জটিল আকার
ধারণ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব অ্যান্টনি ব্লিংকেন বুধবার জানান, হামাস বাইডেনের
প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি কৌশল বাস্তবায়নের জন্য একাধিক দাবি করেছে। তবে কিছু কিছু দাবি
পূরণ করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন। হামাসের জ্যেষ্ঠ এক সদস্য রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে
জানান, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবনায় যে শর্ত রয়েছে সেগুলো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ব্যতিরেকে
কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি হামাস গাজা উপত্যকা থেকে
অবিলম্বে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
আল মাওয়াসি অঞ্চলে হামলার আগে আল নুসেইরাত
ক্যাম্পে ইসরায়েলি বন্দি উদ্ধারের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে সামরিক সহায়তা। যুক্তরাষ্ট্রের
ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার জ্যাক সুলিভান জানিয়েছেন, এই অভিযানে আমাদের প্রত্যক্ষ
অংশগ্রহণ ছিল। বিষয়টি নিয়ে হামাস ইতোমধ্যে তাদের শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, মধ্য ও
পশ্চিম গাজা উপত্যকার বিভিন্ন ইসরায়েলি অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ
এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করছে।
হামাস জানিয়েছে, বাইডেনের প্রস্তাবনার তিনটি পর্যায়ের মধ্যে ধারাবাহিকতা
থাকতে হবে। প্রতিটি ধাপে যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি গাজায় চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বা ব্লকেড তুলে
দিতে হবে। ফিলিস্তিনিরা যেন নির্বিঘ্নে গাজায় চলাচল করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তির দাবিও জানিয়েছে
তারা। ইতোমধ্যে হামাস ১০০ জন ফিলিস্তিনি বন্দির একটি তালিকা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের
কাছে। হামাসের ওই নেতা জানান, ‘তালিকায় ওই বন্দিদের রাখা হয়েছে যাদের আরও ১৫ বছর কারাদণ্ড
ভোগ করতে হবে। বাইডেনের এই প্রস্তাবনার বিষয়ে হামাস ইতিবাচক এবং এই প্রস্তাবনায় হামাস
কর্তৃপক্ষের বড় কোনো অভিযোগ নেই।’
অন্যদিকে ইসরায়েলের টাইমস অব ইসরায়েল সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামাস
ইসরায়েলের কাছে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি আদায়ের সুযোগ খুঁজছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বাইডেনের প্রস্তাবের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে
রাজি হয়েছেন। তবে যুদ্ধবিরতিকালে হামাসের কাছে বন্দি নারী, অসুস্থ এবং বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের
মুক্তি দাবি করেছেন। ছয় সপ্তাহ অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকালে এই বন্দি বিনিময় কার্যকর হবে।
তারপর আবার নতুন করে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা ১৩ জুন আলজাজিরাকে জানিয়েছে, তারা
ছয়টি ইসরায়েলি সেনাঘাঁটিতে রকেট ও ড্রোন হামলা করেছে। ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় এক জ্যেষ্ঠ
হিজবুল্লাহ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। আলজাজিরার ভিন্ন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায়
যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননে হুতিদের দিকে মনোযোগ বাড়াতে পারে।
যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ইসরায়েল হুতিদের সামলানোর জন্য ইতোমধ্যে কিছু অভিযান পরিকল্পনাও
করেছে। যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ শেষে আবার গাজায় অভিযান চালানো হবে বলে জানা গেছে।
সূত্র : আলজাজিরা, রয়টার্স