জি-৭ সম্মেলন
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৪ ২২:১৬ পিএম
চলতি বছরের জি-৭
সম্মেলনের আয়োজক ইতালিতে শুরু হয়েছে জি-৭ জোটের সম্মেলন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া
মেলোনি সম্মেলনে বৈদেশিক কূটনীতির বিষয়ের পাশাপাশি চলমান বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনের বিষয়টিকে
গুরুত্ব দিয়েছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধের
বিষয়ে সম্মেলনে আলোচনা হবে। শনিবারে মূল সম্মেলনে জোটের সদস্যরা বৈশ্বিক সংঘাত, কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তার নেতিবাচক প্রভাব এবং ইউরোপের অভিবাসী সংকট নিয়ে আলোচনা হবে।
ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষা
ও পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য ৫০ বিলিয়ন ডলার ঋণের বিষয়ে একমত হতে পারেন জি-৭ নেতারা।
এদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে জব্দকৃত সম্পদ ইউক্রেনকে দিতে সম্মত হতে পারে জি-৭। যুক্তরাষ্ট্রের
দেওয়া প্রস্তাব অনুসারে, রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ থেকে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো প্রতিবছর
ইউক্রেনের জন্য ৫ হাজার কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত,
ইউক্রেনের সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভবিষ্যতে
যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো সরকার চাইলে এ চুক্তি পরিবর্তন করতে পারবে। এ চুক্তির খসড়া
অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীকে ১০ বছরের জন্য প্রশিক্ষণ, অস্ত্র
উৎপাদনে সহযোগিতা বৃদ্ধি, সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে এবং গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার বাড়াতে
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে নিতে হামাসের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য শীর্ষ সম্মেলনকে ব্যবহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সমর্থন দিতে জি-৭ মিত্রদের চাপ দেবেন।
প্রথমদিন
সম্মেলনে যোগদানের আগেই এক্সবার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন,
আজ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে
তিনি লিখেছেন, ‘আজ আমি জি-৭ বৈঠকে যোগ দেব এবং বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক
বৈঠক করব। শীর্ষ বৈঠকের আয়োজক ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, কানাডা ও ব্রিটেনের
প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও ঋষি সুনাক, ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস
মিশেল এবং আইএমএফ-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার সঙ্গেও আমি দেখা
করব’।
এক্সবার্তায়
জেলেনস্কি আরো জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও
কিশিদার সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে চুক্তিটি হবে নজিরবিহীন।
এবারে
জি-৭-এর ৫০তম সম্মেলনে সাতটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা ছাড়াও আফ্রিকা ও এশিয়া-প্রশান্ত
মহাসাগরীয় অঞ্চলের নেতারা অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য
হাজির হয়েছেন। এ সম্মেলনে নিজ দেশের সমস্যার বাইরেও রাষ্ট্রপ্রধানরা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ
নানা বিষয়ে আলোচনার সুযোগ পাবেন।
এবারের সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ছাড়াও উপস্থিত রয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক, জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা, ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন, ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মাইকেল। এর বাইরে উপস্থিত হয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা